দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

টানা বৃষ্টিতে ফের ডুবছে চট্টগ্রাম: দুর্ভোগে কর্মজীবী মানুষ, বাড়ল রিকশা ভাড়া

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আলি খামেনির শৈশব: মক্তবের কঠোর শাসন ও একজন শিক্ষকের ভয়

আলি খামেনির শৈশব: মক্তবের কঠোর শাসন ও একজন শিক্ষকের ভয়
-ছবি: সংগৃহীত

খামেনির শৈশব: মক্তবের সেই ভয়ংকর শিক্ষক ও দারিদ্র্য জয়ের গল্প

 ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শৈশব ছিল একদিকে কঠোর শাসন ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, অন্যদিকে জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগে পরিপূর্ণ। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের এক সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার জীবনধারা গড়ে উঠেছে অত্যন্ত সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবেশে।

শৈশবে মক্তবের সেই ‘ভয়ংকর’ স্মৃতি

আলী খামেনির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের হাত ধরে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু সেই মক্তবের স্মৃতি তার কাছে খুব একটা সুখকর ছিল না। নিজের স্মৃতিকথায় খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। এর কারণ ছিল ওই শিক্ষকের অমানবিক শাসন। প্রতি শনিবার নিয়ম করে তিনি শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতেন। সেই শৈশবে শিক্ষকের ওই কঠোরতাই ছিল খামেনির প্রথম জীবনের বড় এক আতঙ্ক।


পারিবারিক পটভূমি ও মায়ের প্রভাব

খামেনির পরিবার মূলত আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত, যারা ইরাক থেকে এসে মাশহাদে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তবে খামেনির চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল তার মা খাদিজে মির্দামাদীর।

মায়ের সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী মনোভাব খামেনির ভেতরেও শিল্প-সাহিত্যের বীজ বুনে দেয়। শৈশবে মায়ের কাছেই তার ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়।

দারিদ্র্য ও সহপাঠীদের কটাক্ষ

আট ভাই-বোনের সংসারে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় বলেন:

"ছোটবেলায় আমাদের অনেক রাত না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। মলিন ও পুরোনো পোশাক পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার কারণে সহপাঠীরা প্রায়ই আমাকে নিয়ে বিদ্রূপ করত, যা নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো।"


সাহিত্যের নেশা: ১০০০ উপন্যাস পাঠ

কৈশোরেই সাহিত্যের প্রতি প্রচণ্ড নেশা তৈরি হয় খামেনির। কোমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি প্রায় এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিলেন। তার পছন্দের তালিকায় ছিল বিশ্বখ্যাত লেখক লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার বই। যৌবনে তিনি ‘আমিন’ ছদ্মনামে নিয়মিত কবিতা লিখতেন এবং বিভিন্ন সাহিত্য আসরে যোগ দিতেন।

খোমেনির সাথে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

১৯৫৫ সালে ছাত্র থাকাকালীন কোমের একটি সভায় খামেনির সাথে প্রথম দেখা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির। সেই পরিচয় ও আদর্শিক যোগাযোগই পরবর্তীকালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে এবং খামেনির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


আলি খামেনির শৈশব: মক্তবের কঠোর শাসন ও একজন শিক্ষকের ভয়

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

খামেনির শৈশব: মক্তবের সেই ভয়ংকর শিক্ষক ও দারিদ্র্য জয়ের গল্প

 ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শৈশব ছিল একদিকে কঠোর শাসন ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, অন্যদিকে জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগে পরিপূর্ণ। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের এক সাধারণ ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার জীবনধারা গড়ে উঠেছে অত্যন্ত সাধারণ ও সংগ্রামী পরিবেশে।

শৈশবে মক্তবের সেই ‘ভয়ংকর’ স্মৃতি

আলী খামেনির বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের হাত ধরে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু সেই মক্তবের স্মৃতি তার কাছে খুব একটা সুখকর ছিল না। নিজের স্মৃতিকথায় খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে প্রচণ্ড ভয় পেতেন। এর কারণ ছিল ওই শিক্ষকের অমানবিক শাসন। প্রতি শনিবার নিয়ম করে তিনি শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করাতেন এবং কোনো কারণ ছাড়াই মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতেন। সেই শৈশবে শিক্ষকের ওই কঠোরতাই ছিল খামেনির প্রথম জীবনের বড় এক আতঙ্ক।


পারিবারিক পটভূমি ও মায়ের প্রভাব

খামেনির পরিবার মূলত আজারবাইজানি বংশোদ্ভূত, যারা ইরাক থেকে এসে মাশহাদে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন একজন সুপরিচিত শিয়া পণ্ডিত এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তবে খামেনির চরিত্র গঠনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছিল তার মা খাদিজে মির্দামাদীর।

মায়ের সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত এবং সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী মনোভাব খামেনির ভেতরেও শিল্প-সাহিত্যের বীজ বুনে দেয়। শৈশবে মায়ের কাছেই তার ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়।

দারিদ্র্য ও সহপাঠীদের কটাক্ষ

আট ভাই-বোনের সংসারে খামেনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার শৈশব কেটেছে চরম অভাবের মধ্যে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় বলেন:

"ছোটবেলায় আমাদের অনেক রাত না খেয়েই ঘুমাতে যেতে হতো। মলিন ও পুরোনো পোশাক পরে মাদ্রাসায় যাওয়ার কারণে সহপাঠীরা প্রায়ই আমাকে নিয়ে বিদ্রূপ করত, যা নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো।"


সাহিত্যের নেশা: ১০০০ উপন্যাস পাঠ

কৈশোরেই সাহিত্যের প্রতি প্রচণ্ড নেশা তৈরি হয় খামেনির। কোমে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষায় যোগ দেওয়ার আগেই তিনি প্রায় এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে শেষ করেছিলেন। তার পছন্দের তালিকায় ছিল বিশ্বখ্যাত লেখক লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার বই। যৌবনে তিনি ‘আমিন’ ছদ্মনামে নিয়মিত কবিতা লিখতেন এবং বিভিন্ন সাহিত্য আসরে যোগ দিতেন।

খোমেনির সাথে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ

১৯৫৫ সালে ছাত্র থাকাকালীন কোমের একটি সভায় খামেনির সাথে প্রথম দেখা হয় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির। সেই পরিচয় ও আদর্শিক যোগাযোগই পরবর্তীকালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে এবং খামেনির রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর