ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
রাজধানীর বনানী এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ উঠেছে। এক বিধবা নারী অভিযোগ করেছেন, তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া বনানীর স্যাটেলাইট এলাকার ওই নারী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে বিভিন্ন অজুহাতে অল্প পরিমাণ টাকা চাওয়া হলেও পরে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপমান, মানহানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো অর্থের একাধিক লেনদেনের তথ্য ও স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগকারী নারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে আরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ হয়নি।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দার মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এলাকায় নতুন নয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি রাজনৈতিক দল এবং সরকারের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের দাবি, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল এবং অনলাইন হয়রানি সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও একাকী বসবাসকারীরা অনেক সময় সামাজিক ভয় ও মানসিক চাপে অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন না।
আইনজীবীদের মতে, কারও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি বা মানহানির হুমকি দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।
সামাজিক সচেতনতা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না হলেও বিষয়টি নিয়ে বনানী এলাকায় উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের
রাজধানীর বনানী এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ উঠেছে। এক বিধবা নারী অভিযোগ করেছেন, তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া বনানীর স্যাটেলাইট এলাকার ওই নারী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে বিভিন্ন অজুহাতে অল্প পরিমাণ টাকা চাওয়া হলেও পরে টাকার পরিমাণ বাড়তে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপমান, মানহানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো অর্থের একাধিক লেনদেনের তথ্য ও স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগকারী নারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে আরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ হয়নি।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দার মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এলাকায় নতুন নয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর একাংশ মনে করছেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি রাজনৈতিক দল এবং সরকারের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের দাবি, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল এবং অনলাইন হয়রানি সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও একাকী বসবাসকারীরা অনেক সময় সামাজিক ভয় ও মানসিক চাপে অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন না।
আইনজীবীদের মতে, কারও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি বা মানহানির হুমকি দেওয়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি।
সামাজিক সচেতনতা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না হলেও বিষয়টি নিয়ে বনানী এলাকায় উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন