দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

বনানীতে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, উদ্বেগে স্থানীয়রা

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন অর্থ আদায়ের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক স্থানীয় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, ব্যক্তিগত কিছু ছবি ব্যবহার করে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয় এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একাধিকবার টাকা আদায় করা হয়েছে।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বনানী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।‘ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়’—ভুক্তভোগীর অভিযোগভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া বনানীর স্যাটেলাইট এলাকার এক বিধবা নারী দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:1481]তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে অল্প অল্প করে টাকা চাওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে দাবির পরিমাণ বাড়তে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা, মানহানি এবং আরও ক্ষতির ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নারীর দাবি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো টাকার একাধিক লেনদেনের তথ্য ও স্ক্রিনশট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।মানসিক চাপে ছিলেন দীর্ঘদিনঅভিযোগকারী নারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভয় ও মানসিক চাপে ছিলেন। পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি মাথায় রেখে এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেননি।তিনি দাবি করেন, প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলেই নতুন করে ভয় দেখানো হতো। এমনকি বিষয়টি কাউকে জানালে ব্যক্তিগত ক্ষতির আশঙ্কাও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা ও সুরক্ষা চেয়েছেন ওই নারী।এলাকায় নানা আলোচনা, তদন্তের দাবিঘটনাটি সামনে আসার পর বনানী এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা গিয়েছিল। যদিও সেসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এলাকাটিতে নতুন নয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।এলাকাবাসীর একটি অংশ মনে করছে, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।অভিযুক্তের বক্তব্য মেলেনিঅভিযুক্ত যুবদল নেতার সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি দলের ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।তাদের মতে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।ব্ল্যাকমেল ও ডিজিটাল হয়রানি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগবিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল এবং অনলাইন হয়রানির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নারী ও একাকী বসবাসকারীরা অনেক সময় সামাজিক ভয় ও মানসিক চাপের কারণে সহজে অভিযোগ প্রকাশ করতে পারেন না।আইনজীবীদের ভাষ্য, কারও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো, অর্থ আদায় কিংবা মানহানির হুমকি দেওয়া দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।তাদের মতে, এমন ঘটনায় দ্রুত আইনি সহায়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1509]এখন নজর তদন্তের দিকেঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না হলেও বনানী এলাকায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।বনানীর এই অভিযোগ আবারও সামনে এনে দিয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু একজন নারীর ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, বরং সমাজে ভয় ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরিরও ইঙ্গিত দেয়। এখন সবার নজর প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে।

বনানীতে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, উদ্বেগে স্থানীয়রা