বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, নতুন ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত আগের ১৯ শতাংশের চেয়ে কম হলেও ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই 'আনপ্রেডিক্টেবল' বা অনিশ্চিত আচরণের ফলে মার্কিন আমদানিকারকরা বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্ডার দিতে দ্বিধাবোধ করছেন। ঝুঁকি এড়াতে তারা বর্তমানে ছোট ছোট চালানে পণ্য আমদানির কৌশল নিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক কমলে খুচরা বাজারে পোশাকের দাম কমবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বাড়াতে পারে। তবে বড় শঙ্কা হলো—১৫ শতাংশে এই শুল্ক হার স্থির থাকবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না। রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক পরিবর্তনের কারণে গত বছরের এপ্রিলের আগের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে এলেও আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। শুল্কহার বারবার পরিবর্তনের ভয়ে অনেক খুচরা বিক্রেতা তাদের ইনভেন্টরি বা মজুদ কমিয়ে দিচ্ছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় ধরনের উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে ট্রাম্প প্রশাসন গত সরকারের শেষ সময়ে একটি বাণিজ্য চুক্তি চাপিয়ে দেয়। তবে সেই চুক্তিতে বাংলাদেশ কী করতে পারবে আর কী পারবে না—এমন অনেক শর্ত থাকায় দেশীয় অর্থনীতিবিদরা একে ‘একপেশে’ বলে সমালোচনা করেছেন।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "ট্রাম্পের শুল্ক নীতি শুরু থেকেই অনিশ্চিত। বায়াররা বর্তমানে বেকায়দায় আছেন এবং তারা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। আমাদের উচিত এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।"
বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের জন্য সুখবর হলেও পুরনো চুক্তি নিয়ে এখনই আলোচনার সময় আসেনি। বাংলাদেশের উচিত আপাতত চুপ থেকে সময় নেওয়া এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা।"
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি শুরু করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ বা আগামীকালের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসবেন। সেখানে মার্কিন বাজারের নতুন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, নতুন ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত আগের ১৯ শতাংশের চেয়ে কম হলেও ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই 'আনপ্রেডিক্টেবল' বা অনিশ্চিত আচরণের ফলে মার্কিন আমদানিকারকরা বড় ও দীর্ঘমেয়াদি অর্ডার দিতে দ্বিধাবোধ করছেন। ঝুঁকি এড়াতে তারা বর্তমানে ছোট ছোট চালানে পণ্য আমদানির কৌশল নিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক কমলে খুচরা বাজারে পোশাকের দাম কমবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বাড়াতে পারে। তবে বড় শঙ্কা হলো—১৫ শতাংশে এই শুল্ক হার স্থির থাকবে কি না, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না। রপ্তানিকারকরা বলছেন, শুল্ক পরিবর্তনের কারণে গত বছরের এপ্রিলের আগের মতো অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরে এলেও আমদানিকারকদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। শুল্কহার বারবার পরিবর্তনের ভয়ে অনেক খুচরা বিক্রেতা তাদের ইনভেন্টরি বা মজুদ কমিয়ে দিচ্ছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় ধরনের উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে ট্রাম্প প্রশাসন গত সরকারের শেষ সময়ে একটি বাণিজ্য চুক্তি চাপিয়ে দেয়। তবে সেই চুক্তিতে বাংলাদেশ কী করতে পারবে আর কী পারবে না—এমন অনেক শর্ত থাকায় দেশীয় অর্থনীতিবিদরা একে ‘একপেশে’ বলে সমালোচনা করেছেন।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "ট্রাম্পের শুল্ক নীতি শুরু থেকেই অনিশ্চিত। বায়াররা বর্তমানে বেকায়দায় আছেন এবং তারা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। আমাদের উচিত এই মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।"
বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের রায় আমাদের জন্য সুখবর হলেও পুরনো চুক্তি নিয়ে এখনই আলোচনার সময় আসেনি। বাংলাদেশের উচিত আপাতত চুপ থেকে সময় নেওয়া এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা।"
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি শুরু করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ বা আগামীকালের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসবেন। সেখানে মার্কিন বাজারের নতুন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন