দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়: তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন দিগন্তের উন্মোচন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়: তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন দিগন্তের উন্মোচন।
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসা ও সংঘাতের সংস্কৃতি পেছনে ফেলে এক অভাবনীয় সম্প্রীতির নজির স্থাপন করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুদিন আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান।

বিজয়ী দলের নেতার পক্ষ থেকে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে গিয়ে এমন সৌজন্য প্রদর্শনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উদারতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।

জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছালে জামায়াত আমির তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তকে 'ঐতিহাসিক' অভিহিত করে লেখেন, "সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতার এক নতুন অধ্যায়। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু বা বিরোধীদের ওপর কোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাত সাড়ে ৮টায় তারেক রহমান বাড্ডায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান। সেখানে দুই নেতার মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম তাঁকে ফুলের পাশাপাশি 'শাপলা কলি'র প্রতিকৃতি এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের এক শহীদের চিঠি উপহার দেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও যেকোনো জাতীয় সংকট সংলাপে সমাধানের ব্যাপারে তারেক রহমান একমত পোষণ করেছেন।

এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা

বিএনপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি 'ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি' গড়ে তুলতে চান, যেখানে রাজনৈতিক জয়-পরাজয় থাকবে কেবল ভোটের মাঠে, ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়। দীর্ঘদিনের শূন্যতা আর রাজনৈতিক হাহাকারের যবনিকাপাত ঘটিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ জনগণের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, এই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের প্রতি তারেক রহমানের এই সৌজন্যতা বাংলাদেশের আগামীর স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়: তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন দিগন্তের উন্মোচন।

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিহিংসা ও সংঘাতের সংস্কৃতি পেছনে ফেলে এক অভাবনীয় সম্প্রীতির নজির স্থাপন করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র দুদিন আগে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে যান।

বিজয়ী দলের নেতার পক্ষ থেকে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে গিয়ে এমন সৌজন্য প্রদর্শনের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও উদারতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।

জামায়াত আমিরের বাসভবনে তারেক রহমান

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যান তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছালে জামায়াত আমির তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মুহূর্তকে 'ঐতিহাসিক' অভিহিত করে লেখেন, "সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতার এক নতুন অধ্যায়। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু বা বিরোধীদের ওপর কোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাত সাড়ে ৮টায় তারেক রহমান বাড্ডায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের বাসভবনে যান। সেখানে দুই নেতার মধ্যে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম তাঁকে ফুলের পাশাপাশি 'শাপলা কলি'র প্রতিকৃতি এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের এক শহীদের চিঠি উপহার দেন।

এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও যেকোনো জাতীয় সংকট সংলাপে সমাধানের ব্যাপারে তারেক রহমান একমত পোষণ করেছেন।

এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা

বিএনপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, তারেক রহমান একটি 'ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি' গড়ে তুলতে চান, যেখানে রাজনৈতিক জয়-পরাজয় থাকবে কেবল ভোটের মাঠে, ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নয়। দীর্ঘদিনের শূন্যতা আর রাজনৈতিক হাহাকারের যবনিকাপাত ঘটিয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ জনগণের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, এই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারাও এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের প্রতি তারেক রহমানের এই সৌজন্যতা বাংলাদেশের আগামীর স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর