মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশে একের পর এক বিমান হামলার ঘটনায় তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ জানান। সেখানে তিনি ফিলিস্তিন ইস্যু, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান তার পোস্টে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও সবসময় সংহতি প্রকাশ করে এসেছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের জনগণ শুধু রাজনৈতিক চাপের মধ্যে নয়, বরং তাদের ভূমি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে দেখছেন।
পোস্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে। তারেক রহমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লাখো বাংলাদেশি শ্রমজীবী মানুষ কাজ করছেন। চলমান সংঘাত ও হামলার কারণে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্যও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতেরই ধারাবাহিকতা। ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা উপত্যকায় সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে সেখানে নিয়মিত বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনেও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীরা একটি বড় শ্রমশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি বসবাস করেন। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বৈশ্বিক মানবাধিকার ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন অবস্থান জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিকেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনেও প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং মানবিক—সব দিক থেকেই সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, পাশাপাশি লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশে একের পর এক বিমান হামলার ঘটনায় তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগ জানান। সেখানে তিনি ফিলিস্তিন ইস্যু, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান তার পোস্টে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও সবসময় সংহতি প্রকাশ করে এসেছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের জনগণ শুধু রাজনৈতিক চাপের মধ্যে নয়, বরং তাদের ভূমি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে দেখছেন।
পোস্টে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে। তারেক রহমান বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লাখো বাংলাদেশি শ্রমজীবী মানুষ কাজ করছেন। চলমান সংঘাত ও হামলার কারণে এসব মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় চলমান সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দ্রুত আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রক্রিয়া, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্যও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতেরই ধারাবাহিকতা। ১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজা উপত্যকায় সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে সেখানে নিয়মিত বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনেও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীরা একটি বড় শ্রমশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক মিলিয়ন বাংলাদেশি বসবাস করেন। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তারেক রহমানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বৈশ্বিক মানবাধিকার ইস্যুতে রাজনৈতিক নেতাদের এমন অবস্থান জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিকেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনেও প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং মানবিক—সব দিক থেকেই সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন