কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজের দুই দিন পর চার বছর বয়সী শিশু মো. ওমাইরের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণ ও হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে আব্দুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১৩ ব্লকে একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওমাইর ওই ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে। শিশুটির বাবার অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ওমাইর নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্য ও ব্লক হেড মাঝি বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করেন।
পরদিন ৯ অক্টোবর শিশুটির বাবা আব্দুল হামিদ পুলিশকে জানান, আব্দুর রহমান তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় রোহিঙ্গা মাঝিদের সহযোগিতায় অনুসন্ধান চালায়।
এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আব্দুর রহমান শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডি/১৩ ব্লকে তাঁর বসতঘরসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওমাইরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জামতলী পুলিশ ক্যাম্প-১৫-এর পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর উখিয়া থানা-পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
শিশুটিকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল, মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে হত্যার কী সম্পর্ক এবং ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজের দুই দিন পর চার বছর বয়সী শিশু মো. ওমাইরের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহরণ ও হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে আব্দুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১৩ ব্লকে একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওমাইর ওই ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে। শিশুটির বাবার অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ওমাইর নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্য ও ব্লক হেড মাঝি বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করেন।
পরদিন ৯ অক্টোবর শিশুটির বাবা আব্দুল হামিদ পুলিশকে জানান, আব্দুর রহমান তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় রোহিঙ্গা মাঝিদের সহযোগিতায় অনুসন্ধান চালায়।
এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে আব্দুর রহমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আব্দুর রহমান শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডি/১৩ ব্লকে তাঁর বসতঘরসংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ওমাইরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জামতলী পুলিশ ক্যাম্প-১৫-এর পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর উখিয়া থানা-পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
শিশুটিকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল, মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে হত্যার কী সম্পর্ক এবং ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন