দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

বিদেশি শিক্ষার্থীদের OPT-তে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস: সিআরএস

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ২৩ ভারতীয় ক্রুবাহী তেল ট্যাঙ্কারে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র সঙ্গ না দিলেও ইরানে হামলার প্রস্তুতি ইসরায়েলের

কাশ্মীরে ১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের দাবি ভারতের, ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর কথা

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের
ভারতে স্টারলিংকের লাইসেন্স নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন ইলন মাস্ক।

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, ভারতের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে চাইছেন না।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নীতি, রিলায়েন্স গ্রুপের ভূমিকা এবং স্টারলিংকের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাস্ক। তবে ভারত সরকার তাঁর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ খাতে অনুমোদনের জন্য স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন কাঠামো রয়েছে। স্টারলিংকের নিরাপত্তা মূল্যায়নও বর্তমানে চলমান।

টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, ‘প্রিয় “প্রধানমন্ত্রী আম্বানি”, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত প্রধান, তা বুঝতে না পারায় দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা প্রার্থনাকে মঞ্জুর করবেন।’

এরপর স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাস্ক লেখেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আপনি ভারতের মহান জনগণকে আপনার একচেটিয়া শোষণের মাধ্যমে ধরে রাখতে চাইবেন, কিন্তু তবুও কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করবেন?’

মাস্কের এই বক্তব্য মূলত ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত এবং বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

ভারতের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন মাস্ক। তাঁর মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এসব এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে। এতে শিশুদের শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।

স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায় গত বুধবার। এক্সে এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী ধনকুবের ভারতের জনগণের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংককে আটকে রাখছেন।

তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও আখ্যা দেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত স্টারলিংক ভারতের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন লাইসেন্স পাচ্ছে না।

তাঁর ভাষ্য, স্টারলিংক বহু দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাহলে ভারতে সেবা চালুর অনুমোদন পেতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন—সেই প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়লে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, ভারতে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হবে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের একটি বড় সুবিধা হলো, প্রচলিত তারভিত্তিক অবকাঠামো বা মোবাইল টাওয়ারের ওপর এর নির্ভরতা তুলনামূলক কম। ফলে দুর্গম এলাকা কিংবা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে এ ধরনের সেবা চালুর ক্ষেত্রে লাইসেন্স, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

মাস্কের অভিযোগের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্যাটেলাইট সেবাসহ টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য ভারত সরকার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো তৈরি করেছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাসংক্রান্ত যে মূল্যায়ন প্রয়োজন, তা বর্তমানে চলমান। অর্থাৎ, স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি।

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা চালুর অনুমোদন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান।

  • স্পেসএক্সের স্টারলিংক: ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান।
  • ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব: ভারতীয় শিল্পপতি সুনীল ভারতী মিত্তালের নেতৃত্বাধীন ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত উদ্যোগ।
  • রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড: মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠানই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের আগে নিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

ভারত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরই বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

স্টারলিংকের লাইসেন্স নিয়ে বিতর্কে একদিকে রয়েছে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রক্রিয়া।

মাস্কের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থ স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করছে। অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন এখনো শেষ হয়নি।

ফলে এই বিরোধের নিষ্পত্তি শুধু দুই ধনকুবেরের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে না; বরং ভারতের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশের ওপরও নির্ভর করবে।

বিষয় : ইলন মাস্ক মুকেশ আম্বানি স্টারলিংক ভারত স্পেসএক্স

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতীয় শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, ভারতের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রাখতে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে চাইছেন না।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নীতি, রিলায়েন্স গ্রুপের ভূমিকা এবং স্টারলিংকের লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মাস্ক। তবে ভারত সরকার তাঁর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ খাতে অনুমোদনের জন্য স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন কাঠামো রয়েছে। স্টারলিংকের নিরাপত্তা মূল্যায়নও বর্তমানে চলমান।

টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, ‘প্রিয় “প্রধানমন্ত্রী আম্বানি”, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত প্রধান, তা বুঝতে না পারায় দয়া করে আমার বিনীত ক্ষমা প্রার্থনাকে মঞ্জুর করবেন।’

এরপর স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাস্ক লেখেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আপনি ভারতের মহান জনগণকে আপনার একচেটিয়া শোষণের মাধ্যমে ধরে রাখতে চাইবেন, কিন্তু তবুও কি স্টারলিংককে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করবেন?’

মাস্কের এই বক্তব্য মূলত ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত এবং বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

ভারতের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন মাস্ক। তাঁর মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এসব এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দিতে পারে। এতে শিশুদের শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।

স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে বিতর্কটি নতুন মাত্রা পায় গত বুধবার। এক্সে এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা প্রভাবশালী ধনকুবের ভারতের জনগণের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংককে আটকে রাখছেন।

তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও আখ্যা দেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে অনুমোদিত স্টারলিংক ভারতের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন লাইসেন্স পাচ্ছে না।

তাঁর ভাষ্য, স্টারলিংক বহু দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাহলে ভারতে সেবা চালুর অনুমোদন পেতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন—সেই প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়লে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, ভারতে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি যোগাযোগ বজায় রাখা সহজ হবে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের একটি বড় সুবিধা হলো, প্রচলিত তারভিত্তিক অবকাঠামো বা মোবাইল টাওয়ারের ওপর এর নির্ভরতা তুলনামূলক কম। ফলে দুর্গম এলাকা কিংবা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তবে এ ধরনের সেবা চালুর ক্ষেত্রে লাইসেন্স, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

মাস্কের অভিযোগের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্যাটেলাইট সেবাসহ টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য ভারত সরকার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো তৈরি করেছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাসংক্রান্ত যে মূল্যায়ন প্রয়োজন, তা বর্তমানে চলমান। অর্থাৎ, স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো দেওয়া হয়নি।

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা চালুর অনুমোদন পাওয়ার দৌড়ে রয়েছে তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠান।

  • স্পেসএক্সের স্টারলিংক: ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান।
  • ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব: ভারতীয় শিল্পপতি সুনীল ভারতী মিত্তালের নেতৃত্বাধীন ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত উদ্যোগ।
  • রিলায়েন্স জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড: মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠানই কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের আগে নিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

ভারত সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা পর্যালোচনা শেষ হওয়ার পরই বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

স্টারলিংকের লাইসেন্স নিয়ে বিতর্কে একদিকে রয়েছে বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রক্রিয়া।

মাস্কের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থ স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করছে। অন্যদিকে ভারত সরকার বলছে, সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কাঠামো অনুসরণ করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন এখনো শেষ হয়নি।

ফলে এই বিরোধের নিষ্পত্তি শুধু দুই ধনকুবেরের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে না; বরং ভারতের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশের ওপরও নির্ভর করবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর