দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে রোলিং কারখানায় চুল্লি বিস্ফোরণ, চার শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জে রোলিং কারখানায় চুল্লি বিস্ফোরণ, চার শ্রমিক দগ্ধ

নওগাঁয় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ফেসবুক পোস্ট-কমেন্টের বিরোধে যুবক খুন, সিলেটে গ্রেপ্তার ২

কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন

পঞ্চগড় সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ভারতে ফেরত

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ

দুর্দিনেও শতবর্ষের নৌকা তৈরির পেশা আঁকড়ে চাপাতলীর কারিগররা

বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে জিম্মি, ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; গ্রেপ্তার ২

নওগাঁয় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

নওগাঁয় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
নওগাঁয় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

নওগাঁয় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তারা হলেন—

  • অপারেশনকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯)
  • অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩)
  • মেট্রো হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মো. রিপন আলী (৩৭)
  • অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ মোসা. সালমা বিবি নাজমা (৩২)
  • দালালের দায়িত্বে থাকা মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩)
  • মো. নাহিদ বাবু (২২)

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান।

সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান অপারেশনের কথা বলে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

অপারেশনের পর থেকেই রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন মেট্রো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ কাপড় বের করে।

দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পরও রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে হাসপাতালটি অনিবন্ধিত বলে নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত ১৩ এপ্রিল বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।

পিবিআই গত ২২ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসূতির পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচার শেষ করার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তা বের করতে আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া ঘটনাটি চিকিৎসাসেবার নিরাপত্তা ও বেসরকারি হাসপাতালের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ করে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নিবন্ধন, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা এবং অস্ত্রোপচারের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরোয়ানা জারি হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।

বিষয় : নওগাঁয় চিকিৎসক প্রসূতির পেটে গজ সিজারিয়ান অপারেশন নওগাঁ মেট্রো হাসপাতাল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


নওগাঁয় প্রসূতির পেটে গজ রেখে সেলাই, চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নওগাঁয় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

আদালতের আদেশে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তারা হলেন—

  • অপারেশনকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯)
  • অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩)
  • মেট্রো হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মো. রিপন আলী (৩৭)
  • অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ মোসা. সালমা বিবি নাজমা (৩২)
  • দালালের দায়িত্বে থাকা মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩)
  • মো. নাহিদ বাবু (২২)

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান।

সেখানে এক দালাল ভালো সিজারিয়ান অপারেশনের কথা বলে ৮ হাজার টাকার চুক্তিতে তাকে শহরের বেসরকারি মেট্রো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাতেই চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

অপারেশনের পর থেকেই রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরদিন মেট্রো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ কাপড় বের করে।

দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পরও রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নওগাঁর সিভিল সার্জন মেট্রো হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে হাসপাতালটি অনিবন্ধিত বলে নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে গত ১৩ এপ্রিল বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেন এবং তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।

পিবিআই গত ২২ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

প্রসূতির পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচার শেষ করার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে তা বের করতে আবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া ঘটনাটি চিকিৎসাসেবার নিরাপত্তা ও বেসরকারি হাসপাতালের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষ করে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নিবন্ধন, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা এবং অস্ত্রোপচারের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আদালতের তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরোয়ানা জারি হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর