দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান কক্সবাজারের সংলাপে

নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান কক্সবাজারের সংলাপে
-ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান, ৭ দফা প্রস্তাব দিলেন ড. ইউনূস

কক্সবাজারে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য ৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে অনুষ্ঠিত মূল অধিবেশনে তিনি বলেন, মানবিক কারণে ২০১৭ সালে সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু এখন এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যেসব সহিংসতা চলছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যা বন্ধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

ড. ইউনূস আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে। এ সময় তিনি মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির প্রতি আহ্বান জানান যেন নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা না হয়।

সংলাপে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া না গেলে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

এই সম্মেলনের আগে থেকেই বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থী অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

সংলাপের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা দেশের নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দেশ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

সংলাপে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রত্যাবাসন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আনার চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান কক্সবাজারের সংলাপে

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৫

featured Image

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান, ৭ দফা প্রস্তাব দিলেন ড. ইউনূস

কক্সবাজারে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য ৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন থেকে রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে অনুষ্ঠিত মূল অধিবেশনে তিনি বলেন, মানবিক কারণে ২০১৭ সালে সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু এখন এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যেসব সহিংসতা চলছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে, যা বন্ধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

ড. ইউনূস আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে, তাই সমাধানও সেখানেই খুঁজতে হবে। এ সময় তিনি মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির প্রতি আহ্বান জানান যেন নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা না হয়।

সংলাপে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া না গেলে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

এই সম্মেলনের আগে থেকেই বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গা ইস্যুতে একাধিক উদ্যোগ নিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘদিন ধরে মানবিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শরণার্থী অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই সমাধান এখন সময়ের দাবি।

সংলাপের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টা দেশের নির্বাচন নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দেশ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

সংলাপে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিন দিনের এই সম্মেলনে প্রত্যাবাসন, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আনার চেষ্টা চলছে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর