মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ। বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতে টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সদর দফতরে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা বিষয়ক যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মৌলিক সেবায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি টম অ্যান্ড্রুজকে পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ছাড়া এই সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য চাপ তৈরি করবে।
টম অ্যান্ড্রুজ বৈঠকে সংকট সমাধানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, রাখাইন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের বাধার কারণে সফল হয়নি।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বে এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে টম অ্যান্ড্রুজ বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। তিনি আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিতব্য স্টেকহোল্ডার সংলাপে অংশ নেবেন। ওই সংলাপের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকটের সমাধান না হওয়ায় এখন তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের বৈঠক ও আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৫
মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ। বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সাক্ষাতে টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সদর দফতরে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা বিষয়ক যে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটে বাংলাদেশ যে মানবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মৌলিক সেবায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি টম অ্যান্ড্রুজকে পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ছাড়া এই সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য চাপ তৈরি করবে।
টম অ্যান্ড্রুজ বৈঠকে সংকট সমাধানে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। তবে তিনি বলেন, রাখাইন অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের বাধার কারণে সফল হয়নি।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের নেতৃত্বে এই সংকটের একটি টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে টম অ্যান্ড্রুজ বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। তিনি আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে অনুষ্ঠিতব্য স্টেকহোল্ডার সংলাপে অংশ নেবেন। ওই সংলাপের উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকেই কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে এই সংকটের সমাধান না হওয়ায় এখন তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের বৈঠক ও আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন