দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর তামিম

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর তামিম

নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর: সাবেক সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

২৩৫ ইউনিটে ৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, মাগুরায় পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরখাস্ত

চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা

শেখ হাসিনাকে ফেরানো বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয়: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক, চ্যালেঞ্জ সমাধানের চেষ্টা চলছে

দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই: তথ্য উপদেষ্টা

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর তামিম

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর তামিম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে মামলায় ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে বুধবার তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বুধবার আংশিক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি অংশের জবানবন্দি রোববার উপস্থাপন করবেন তিনি।

তার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তামিম। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে যুক্তিতর্ক শুরু হবে বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউটর তামিমের দাবি, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সেগুলোর প্রতিটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।

তবে এটি প্রসিকিউশনের বক্তব্য। মামলার চূড়ান্ত সত্যতা ও আসামির দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের রায়েই নির্ধারিত হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম নিজের জবানবন্দিতে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরছেন বলে জানান প্রসিকিউটর তামিম।

তিনি বলেন, তদন্তের সময় কীভাবে কাজ করা হয়েছে, কার কার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, কোথায় কোথায় যাওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা তার সাক্ষ্যে তুলে ধরছেন।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। পাশাপাশি র‍্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, সে বিষয়েও সাক্ষ্যে বর্ণনা এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউটর আরও বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন বিবরণ উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার বাকি জবানবন্দি রোববার শেষ হলে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আসামিপক্ষ নিজেদের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে।

মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি, তথ্য-উপাত্ত এবং উভয় পক্ষের যুক্তির ওপর। প্রসিকিউশনের দাবি এবং আসামিপক্ষের অবস্থান—দুই পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের মূল্যায়ন আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলোর আইনগত পরিণতি স্পষ্ট হবে।

বিষয় : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ জিয়াউল আহসান মামলা জিয়াউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জিয়াউলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত: প্রসিকিউটর তামিম

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে মামলায় ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে বুধবার তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বুধবার আংশিক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি অংশের জবানবন্দি রোববার উপস্থাপন করবেন তিনি।

তার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হবে বলে জানিয়েছেন তামিম। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারবেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে যুক্তিতর্ক শুরু হবে বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউটর তামিমের দাবি, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল, ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সেগুলোর প্রতিটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন।

তবে এটি প্রসিকিউশনের বক্তব্য। মামলার চূড়ান্ত সত্যতা ও আসামির দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের রায়েই নির্ধারিত হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম নিজের জবানবন্দিতে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরছেন বলে জানান প্রসিকিউটর তামিম।

তিনি বলেন, তদন্তের সময় কীভাবে কাজ করা হয়েছে, কার কার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, কোথায় কোথায় যাওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত কর্মকর্তা তার সাক্ষ্যে তুলে ধরছেন।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, মামলায় তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সাক্ষ্যে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। পাশাপাশি র‍্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছিলেন, সে বিষয়েও সাক্ষ্যে বর্ণনা এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউটর আরও বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন বিবরণ উঠে এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তার বাকি জবানবন্দি রোববার শেষ হলে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর আসামিপক্ষ নিজেদের সাক্ষ্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে।

মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি, তথ্য-উপাত্ত এবং উভয় পক্ষের যুক্তির ওপর। প্রসিকিউশনের দাবি এবং আসামিপক্ষের অবস্থান—দুই পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের মূল্যায়ন আলাদাভাবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলোর আইনগত পরিণতি স্পষ্ট হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর