দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

আঙুলের ছাপ ক্লোন করে বিকাশ-নগদের আড়াই লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৯

আদাবরে চাপাতি নিয়ে হামলা, পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ ২; গ্রেপ্তার ১০

গাজীপুরে ১৬ বছরের পোশাক শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ফেনীর হোটেলের বাথরুমে তৈরি হচ্ছিল ভেজাল ‘খাঁটি মধু’, আটক ৪

বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন, মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী যানজট

টিকটকে পরিচয়, অতঃপর প্রেম; দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

সালিসি বৈঠকে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত, গ্রেপ্তারে পুলিশ

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ
বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে তিন বছরের শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বান্দরবানে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু তায়িফা সুলতানা (৩) ওই এলাকার ইলিয়াস খানের মেয়ে। সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে ইলিয়াস খানের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে নার্গিস সুলতানাকে শিশু তায়িফাকে তার কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরপর নার্গিসের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই কক্ষে থাকা একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা তার ভাতিজিকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই বক্তব্যের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই হত্যার অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যকে তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিহত শিশুটির পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর নার্গিস সুলতানা তার ভাই ইলিয়াস খানের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন।

ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা স্তম্ভিত। ওই স্বজনের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে নার্গিসের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে নার্গিস বিস্তারিত কিছু বলছেন না বলে জানান তিনি।

এটি পরিবারের একজন সদস্যের ধারণা; পুলিশ তদন্তে হত্যার প্রকৃত কারণ কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানকার একটি বাক্স থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যখন শিশুটিকে খুঁজছিলেন, তখন একই বাড়ির একটি কক্ষের বাক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটিকে আরও গভীর তদন্তের বিষয় করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুটি কীভাবে ওই কক্ষে গেল, কখন এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হলো এবং হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার পুরো সময়রেখা নির্ধারণে এসব তথ্যই প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিষয় : বান্দরবানে শিশুর মরদেহ বান্দরবানে হত্যা তিন বছরের শিশুর মরদেহ ফুফুর কক্ষে শিশুর মরদেহ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নিখোঁজ শিশুকে খুঁজছিল সবাই, ফুফুর কক্ষের বাক্সে পাওয়া গেল মরদেহ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বান্দরবানে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ফুফুর কক্ষের একটি বাক্স থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু তায়িফা সুলতানা (৩) ওই এলাকার ইলিয়াস খানের মেয়ে। সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

পুলিশ জানায়, নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে ইলিয়াস খানের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে নার্গিস সুলতানাকে শিশু তায়িফাকে তার কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরপর নার্গিসের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই কক্ষে থাকা একটি বাক্সের ভেতর থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার রাত ১০টার দিকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা তার ভাতিজিকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই বক্তব্যের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। তাই হত্যার অভিযোগ ও জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যকে তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিহত শিশুটির পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর নার্গিস সুলতানা তার ভাই ইলিয়াস খানের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন।

ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা স্তম্ভিত। ওই স্বজনের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে নার্গিসের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে নার্গিস বিস্তারিত কিছু বলছেন না বলে জানান তিনি।

এটি পরিবারের একজন সদস্যের ধারণা; পুলিশ তদন্তে হত্যার প্রকৃত কারণ কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানকার একটি বাক্স থেকে শিশু তায়িফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে এবং নার্গিস সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যখন শিশুটিকে খুঁজছিলেন, তখন একই বাড়ির একটি কক্ষের বাক্স থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটিকে আরও গভীর তদন্তের বিষয় করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুটি কীভাবে ওই কক্ষে গেল, কখন এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হলো এবং হত্যার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশুটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার পুরো সময়রেখা নির্ধারণে এসব তথ্যই প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর