দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৭ আগস্ট ২০২৫

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পুনর্বহাল: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করল আপিল বিভাগ

৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পুনর্বহাল: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করল আপিল বিভাগ
-ছবি: সংগৃহীত

১৮ বছর আগে চাকরিচ্যুত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চাকরির সকল সুবিধা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন বলে জানা গেছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল যা রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর একটি অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রায়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং আগের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

এই কর্মকর্তাদের ইতিহাস বেশ পুরোনো। জানা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকারের সময়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ এনে ৮৫ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। ২০১০ সালে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল তাদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই রায় সরকারের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। পরে চেম্বার আদালত ট্রাইব্যুনালের রায় স্থগিত করে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন আপিল বিভাগ সরকারের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় থাকে।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ আগের রায় বাতিল করে তাদের পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল ও চারটি রিভিউ আবেদন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে শুনানি শেষে সর্বশেষ রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন, প্রবীর নিয়োগী ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং আইনজীবী মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আইনি জটিলতার অবসান ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক নিয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মামলার নিষ্পত্তি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করে। তবে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে আপিল বিভাগের এই রায় শুধু একটি চাকরি পুনর্বহালের বিষয় নয়, বরং প্রশাসনিক নিয়োগ ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ এক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


৮৫ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পুনর্বহাল: পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করল আপিল বিভাগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৫

featured Image

১৮ বছর আগে চাকরিচ্যুত ৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের চাকরির সকল সুবিধা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন বলে জানা গেছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল যা রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর একটি অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রায়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং আগের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

এই কর্মকর্তাদের ইতিহাস বেশ পুরোনো। জানা যায়, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকারের সময়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ এনে ৮৫ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। ২০১০ সালে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল তাদের পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই রায় সরকারের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি আপিল বিভাগে যায়। পরে চেম্বার আদালত ট্রাইব্যুনালের রায় স্থগিত করে নিয়মিত আপিল করার নির্দেশ দেয়।

পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন আপিল বিভাগ সরকারের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় থাকে।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ আগের রায় বাতিল করে তাদের পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করেছিল। তবে পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে পুনরায় আপিল ও চারটি রিভিউ আবেদন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন করে শুনানি শেষে সর্বশেষ রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন, প্রবীর নিয়োগী ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং আইনজীবী মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আইনি জটিলতার অবসান ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনিক নিয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মামলার নিষ্পত্তি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করে। তবে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে আপিল বিভাগের এই রায় শুধু একটি চাকরি পুনর্বহালের বিষয় নয়, বরং প্রশাসনিক নিয়োগ ও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ এক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর