চলতি বছরের প্রথম ২৬০ দিনে মালয়েশিয়াজুড়ে প্রায় ১০ হাজার অভিযানে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। একই সময়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুয়ালালামপুরের একটি আবাসিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
লোকমান এফেন্দির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে দেশজুড়ে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে অভিবাসন বিভাগ। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৭টি অভিযান হয়েছে।
এসব অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৫৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব অভিযানে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আটক করা হয়েছে আরও ২২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে।
অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে মূলত তিন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থান, ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থাকা এবং ওয়ার্ক পারমিটে উল্লেখিত শর্ত ভেঙে অন্য খাতে কাজ করা।
অর্থাৎ শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের বিষয় নয়, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অনুমোদিত কাজের বাইরে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরাও অভিযানের আওতায় আসছেন।
অভিবাসন বিভাগের অভিযান শুধু বিদেশি কর্মীদের আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অবৈধ অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়া কিংবা তাঁদের থাকার জন্য জায়গা দেওয়ার অভিযোগে নিয়োগকর্তা ও বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লোকমান এফেন্দি জানান, চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, অবৈধ অভিবাসনের দায় শুধু কর্মীদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাঁদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। কোনো অবৈধ অভিবাসী বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চোখে পড়লে নিজেরা ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লোকমান এফেন্দি বলেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। বরং ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানালে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন। ফলে দেশটির অভিবাসন অভিযান শুধু আটক বা মামলার সংখ্যার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের বৈধ কাগজপত্র, ওয়ার্ক পারমিট, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং শ্রমবাজারের নিয়মকানুনও সরাসরি জড়িত।
বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকায় দেশটির অভিবাসন নীতির পরিবর্তন ও অভিযান প্রবাসী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদিত কর্মক্ষেত্রের শর্ত মেনে চলা তাই আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট ও ওয়ার্ক পারমিটের কাগজপত্র ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার দেওয়া কাজের বাইরে অন্য খাতে কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিবাসন অভিযান চলাকালে গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
মালয়েশিয়ার চলমান অভিযান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি কর্মীদের নয়, তাঁদের নিয়োগ ও আবাসনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পক্ষগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র থাকা যেমন জরুরি, তেমনি নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়েরই চুক্তি ও অনুমতির শর্ত মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চলতি বছরের প্রথম ২৬০ দিনে মালয়েশিয়াজুড়ে প্রায় ১০ হাজার অভিযানে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। একই সময়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুয়ালালামপুরের একটি আবাসিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
লোকমান এফেন্দির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে দেশজুড়ে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করেছে অভিবাসন বিভাগ। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৭টি অভিযান হয়েছে।
এসব অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর মধ্যে ৫৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব অভিযানে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আটক করা হয়েছে আরও ২২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে।
অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে মূলত তিন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থান, ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থাকা এবং ওয়ার্ক পারমিটে উল্লেখিত শর্ত ভেঙে অন্য খাতে কাজ করা।
অর্থাৎ শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের বিষয় নয়, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অনুমোদিত কাজের বাইরে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরাও অভিযানের আওতায় আসছেন।
অভিবাসন বিভাগের অভিযান শুধু বিদেশি কর্মীদের আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। অবৈধ অভিবাসীদের কাজে নিয়োগ দেওয়া কিংবা তাঁদের থাকার জন্য জায়গা দেওয়ার অভিযোগে নিয়োগকর্তা ও বাড়ির মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লোকমান এফেন্দি জানান, চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, অবৈধ অভিবাসনের দায় শুধু কর্মীদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাঁদের নিয়োগ ও আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলোকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। কোনো অবৈধ অভিবাসী বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা চোখে পড়লে নিজেরা ব্যবস্থা না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লোকমান এফেন্দি বলেন, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। বরং ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানালে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন। ফলে দেশটির অভিবাসন অভিযান শুধু আটক বা মামলার সংখ্যার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের বৈধ কাগজপত্র, ওয়ার্ক পারমিট, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব এবং শ্রমবাজারের নিয়মকানুনও সরাসরি জড়িত।
বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক মালয়েশিয়ায় কর্মরত থাকায় দেশটির অভিবাসন নীতির পরিবর্তন ও অভিযান প্রবাসী কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদিত কর্মক্ষেত্রের শর্ত মেনে চলা তাই আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে বৈধ ভিসা, পাসপোর্ট ও ওয়ার্ক পারমিটের কাগজপত্র ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার দেওয়া কাজের বাইরে অন্য খাতে কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিবাসন অভিযান চলাকালে গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
মালয়েশিয়ার চলমান অভিযান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শুধু বিদেশি কর্মীদের নয়, তাঁদের নিয়োগ ও আবাসনের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পক্ষগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে বৈধ কাগজপত্র থাকা যেমন জরুরি, তেমনি নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়েরই চুক্তি ও অনুমতির শর্ত মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন