দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না আসিফ মাহমুদ, এনসিপিতে যোগ দেবেন?

নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না আসিফ মাহমুদ, এনসিপিতে যোগ দেবেন?
-ফাইল ফটো

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম “ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন” অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন ঘোষণার আগেই তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ২০১৮ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত আছেন, তাদের নির্বাচনকালীন সরকারের অংশ হওয়া উচিত নয়। এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেন যে, সরকারের ভেতরে থাকা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অন্য উপদেষ্টারাও একই পথে যেতে পারেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের মতো কিছু তরুণ উপদেষ্টা নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হতে পারেন। আসিফ মাহমুদের বক্তব্য সেই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেননি যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলে, যেমন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেবেন কিনা বা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের এই উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আসিফ মাহমুদকে ঘিরে আরও কিছু রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে। অতীতে জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) ভেতরে মতবিরোধ এবং সংগঠন পরিবর্তনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

এছাড়া তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও তিনি তা নাকচ করেছেন। তিনি জানান, তিনি জাতীয় রাজনীতিতে কাজ করতে চান এবং ঢাকাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতি করা তার জন্য ভবিষ্যতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিই তার মূল লক্ষ্য।

এদিকে তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে চলা বিতর্ক নিয়েও তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এসব অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

সব মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের ভেতরে রাজনৈতিক পদত্যাগ ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণা সেই পরিবর্তনের আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, তার পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মাঠে তিনি কোন ভূমিকায় আসেন এবং তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে—সেই দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না আসিফ মাহমুদ, এনসিপিতে যোগ দেবেন?

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৫

featured Image

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকারের উপদেষ্টা পদে না থাকার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম “ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন” অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন ঘোষণার আগেই তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়াবেন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ২০১৮ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাই নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত আছেন, তাদের নির্বাচনকালীন সরকারের অংশ হওয়া উচিত নয়। এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেন যে, সরকারের ভেতরে থাকা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অন্য উপদেষ্টারাও একই পথে যেতে পারেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের মতো কিছু তরুণ উপদেষ্টা নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হতে পারেন। আসিফ মাহমুদের বক্তব্য সেই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেননি যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলে, যেমন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেবেন কিনা বা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের এই উপদেষ্টাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আসিফ মাহমুদকে ঘিরে আরও কিছু রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে। অতীতে জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) ভেতরে মতবিরোধ এবং সংগঠন পরিবর্তনের সময় তার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন এবং একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।

এছাড়া তার নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে নির্বাচন করার সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও তিনি তা নাকচ করেছেন। তিনি জানান, তিনি জাতীয় রাজনীতিতে কাজ করতে চান এবং ঢাকাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতি করা তার জন্য ভবিষ্যতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিই তার মূল লক্ষ্য।

এদিকে তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে চলা বিতর্ক নিয়েও তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এসব অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

সব মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের ভেতরে রাজনৈতিক পদত্যাগ ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আসিফ মাহমুদের এই ঘোষণা সেই পরিবর্তনের আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, তার পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মাঠে তিনি কোন ভূমিকায় আসেন এবং তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে—সেই দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর