দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২

টঙ্গীতে তুরাগ নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ৩২

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ১৭টি মামলা

গাজীপুরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে তিন ঝুট গুদাম পুড়ে ছাই

শিবচরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুজনের ব্যাগে ৬০ বোতল এসকাফ সিরাপ

স্কুলের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি, স্বামী-স্ত্রীকে বদলি দুই প্রান্তে

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ৬ জন

ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
টানা ছয়দিন পানির নিচে থাকার পর কাপ্তাই হ্রদের পানি সরে যাওয়ায় আবারও দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত সেতু।

টানা ছয়দিন কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে ডুবে থাকার পর অবশেষে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রতীকখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার বিকেলের দিকে সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার পর শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানি সরে যাওয়ার পর সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো টিকিটের টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

আলোক বিকাশ চাকমা জানান, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পর পর্যটকদের কাছ থেকে আবার সেতুতে প্রবেশের টিকিটের টাকা নেওয়া হবে।

অর্থাৎ সেতুটি পানির ওপর থেকে দৃশ্যমান হলেও পর্যটকদের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজও চলছে।

এর আগে ২৯ আগস্ট কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। একই সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওইদিন দুপুর থেকেই ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

হ্রদের পানি কমাতে ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে কর্ণফুলী নদীতে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছিল।

পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাঁধের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানি নিষ্কাশনের এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে।

দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এই সেতু রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। জলপথ ও স্থলপথ—দুইভাবেই এখানে যাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত। তাই টানা ছয়দিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি আবার দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • টানা ছয়দিন পানির নিচে ছিল ঝুলন্ত সেতু
  • শুক্রবার বিকেলে সেতু থেকে পানি সরে যায়
  • বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজ চলছে
  • আপাতত সেতুতে চলাচলের জন্য টিকিট নেওয়া হচ্ছে না
  • ১৯৮৬ সালে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৩৫ ফুট

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি জেলার পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। অতিবৃষ্টিতে সেতুটি ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পানি সরে যাওয়ার খবর পর্যটনপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: সেতু ভেসে ওঠার পর পর্যটকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে পারে। তবে সংস্কারকাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরই পর্যটকদের সেখানে যাওয়াই নিরাপদ হবে।

বিষয় : ঝুলন্ত সেতু ভেসে উঠেছে রাঙামাটির আজকের খবর কাপ্তাই হ্রদের পানি রাঙামাটি পর্যটন রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

টানা ছয়দিন কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে ডুবে থাকার পর অবশেষে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রতীকখ্যাত ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার বিকেলের দিকে সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার পর শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানি সরে যাওয়ার পর সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো টিকিটের টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

আলোক বিকাশ চাকমা জানান, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পর পর্যটকদের কাছ থেকে আবার সেতুতে প্রবেশের টিকিটের টাকা নেওয়া হবে।

অর্থাৎ সেতুটি পানির ওপর থেকে দৃশ্যমান হলেও পর্যটকদের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজও চলছে।

এর আগে ২৯ আগস্ট কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। একই সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওইদিন দুপুর থেকেই ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

হ্রদের পানি কমাতে ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে কর্ণফুলী নদীতে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছিল।

পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাঁধের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানি নিষ্কাশনের এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে।

দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এই সেতু রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। জলপথ ও স্থলপথ—দুইভাবেই এখানে যাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত। তাই টানা ছয়দিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি আবার দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • টানা ছয়দিন পানির নিচে ছিল ঝুলন্ত সেতু
  • শুক্রবার বিকেলে সেতু থেকে পানি সরে যায়
  • বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজ চলছে
  • আপাতত সেতুতে চলাচলের জন্য টিকিট নেওয়া হচ্ছে না
  • ১৯৮৬ সালে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৩৫ ফুট

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি জেলার পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। অতিবৃষ্টিতে সেতুটি ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পানি সরে যাওয়ার খবর পর্যটনপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: সেতু ভেসে ওঠার পর পর্যটকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে পারে। তবে সংস্কারকাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরই পর্যটকদের সেখানে যাওয়াই নিরাপদ হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর