নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দুই শিশুর জীবন এখন যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। তিন বছর আগে বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় মায়ের কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় তাদের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটলেও সন্তান দুটির চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—“মা কবে ফিরবে?”
স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনায় জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা শেফালী রানী চৌধুরী সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে প্রায় তিন বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে পরিবারের পুরো দায়িত্ব ছিল মায়ের ওপর।
বর্তমানে পরিবারের বড় ছেলে (১২) ও ছোট মেয়ে (৯) কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের দেখাশোনার জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবেশীরাই এগিয়ে এসেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশু দুটি প্রায়ই মায়ের খোঁজ করে। স্কুল, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওরা মায়ের সঙ্গেই ছিল। এখন মা-ও নেই। বাচ্চা দুটো খুব কষ্টে আছে। আমরা যতটা পারি সাহায্য করছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান দরকার।”
পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয়রা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি বা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, কোনো পরিবারে অভিভাবকের অনুপস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে না, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের সম্ভাব্য মত হলো, এমন শিশুদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ সংকটের সময় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
ঘটনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হলো—এখানে প্রকৃত ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে দুই শিশু, যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু পারিবারিক সংকটের কারণে তাদের শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
• তিন বছর আগে বাবাকে হারিয়েছে দুই শিশু।
• সম্প্রতি মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় মা কারাগারে গেছেন।
• স্থানীয় প্রতিবেশীরা শিশু দুটির দেখাশোনা করছেন।
• শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
• মানবিক সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সমাজের অনেকেই মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া চললেও শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার ভেঙে পড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ ও মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। গ্রেফতারের পর মামলার কার্যক্রম প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দুই শিশুর জীবন এখন যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষার নাম। তিন বছর আগে বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় মায়ের কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় তাদের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোভাবে দিন কাটলেও সন্তান দুটির চোখে এখন একটাই প্রশ্ন—“মা কবে ফিরবে?”
স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনায় জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা শেফালী রানী চৌধুরী সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এর আগে প্রায় তিন বছর আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে পরিবারের পুরো দায়িত্ব ছিল মায়ের ওপর।
বর্তমানে পরিবারের বড় ছেলে (১২) ও ছোট মেয়ে (৯) কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের দেখাশোনার জন্য কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবেশীরাই এগিয়ে এসেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশু দুটি প্রায়ই মায়ের খোঁজ করে। স্কুল, খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশীরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওরা মায়ের সঙ্গেই ছিল। এখন মা-ও নেই। বাচ্চা দুটো খুব কষ্টে আছে। আমরা যতটা পারি সাহায্য করছি, কিন্তু স্থায়ী সমাধান দরকার।”
পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয়রা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তবে শিশুদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি বা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও সুরক্ষিত হবে।
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের মতে, কোনো পরিবারে অভিভাবকের অনুপস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে না, বরং শিশুদের মানসিক বিকাশ, শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের সম্ভাব্য মত হলো, এমন শিশুদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ সংকটের সময় শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
ঘটনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর দিক হলো—এখানে প্রকৃত ভুক্তভোগী হয়ে উঠেছে দুই শিশু, যারা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু পারিবারিক সংকটের কারণে তাদের শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
• তিন বছর আগে বাবাকে হারিয়েছে দুই শিশু।
• সম্প্রতি মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় মা কারাগারে গেছেন।
• স্থানীয় প্রতিবেশীরা শিশু দুটির দেখাশোনা করছেন।
• শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
• মানবিক সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সমাজের অনেকেই মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া চললেও শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার ভেঙে পড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। তাই এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ ও মানবিক সংগঠনগুলোর দ্রুত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। গ্রেফতারের পর মামলার কার্যক্রম প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন