দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

মেঘনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে নিহত, নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে গুলির অভিযোগ

মেঘনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জেলে নিহত, নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে গুলির অভিযোগ

কুড়িগ্রামে ইয়াবা-হেরোইনসহ আইনজীবী দম্পতি আটক, উদ্ধার ১৯৫ পিস ইয়াবা

কালীগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত, চালক গ্রেপ্তার

সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুসহ দুজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি, কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ

কাস্টম হাউস ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা, নিরাপত্তাপ্রহরীর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

এফিডেভিটে মাকে মৃত দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকায় মেয়েকে বিক্রি বাবার, উদ্ধার ১৪ মাসের শিশু

১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, ফরিদপুরে আসামির ৫ বছরের কারাদণ্ড

৩০ হাজার ইয়াবা লুটের অভিযোগে পুলিশের ৩ সদস্য প্রত্যাহার

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ
নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজ পাঁচ শিশুর সন্ধানে উদ্বিগ্ন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচ শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে একই মাদরাসার তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কারা নিখোঁজ?

নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে রয়েছে নালিতাবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার খন্দকার মোবারক হোসেনের ছেলে খন্দকার মাশরাফি (১২), উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১০), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২) এবং আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৪)।


এছাড়া পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে ইসরাফিল হোসেনও নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল ২৪ পারা কোরআনের হাফেজ।

কীভাবে নিখোঁজ হলো শিশুরা?

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকার তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর খন্দকার মাশরাফি নিখোঁজ হয়।

এর একদিন পর, রোববার দুপুরে পাঁচগাঁও ইকরা তালিমুল নূরানিয়া মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর রাব্বানী, তোফায়েল ও রাসেল নামে তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

অন্যদিকে, ইসরাফিল হোসেন গত ২৭ মে থেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নির্ঘুম সময় কাটছে পরিবারগুলোর

নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা বলছেন, সন্তানদের খুঁজতে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা এবং পরিচিতদের কাছে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারগুলোর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে সন্ধান চেয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

এক স্বজন বলেন, “সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য উদ্বেগের। আমরা শুধু চাই তারা নিরাপদে ফিরে আসুক।”

এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিশু নিখোঁজের ঘটনায় কী বলছেন সচেতন মহল?

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের পাশাপাশি প্রত্যেকটি সূত্র গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ শিশুদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয়রা। পরিবারগুলোর অপেক্ষা এখন একটাই—প্রিয় সন্তানরা যেন দ্রুত সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে আসে।

বিষয় : শেরপুর সংবাদ শেরপুর খবর নালিতাবাড়ী শিশু নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ নিখোঁজ শিশু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলায় অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচ শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে একই মাদরাসার তিন শিক্ষার্থীও রয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কারা নিখোঁজ?

নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে রয়েছে নালিতাবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার খন্দকার মোবারক হোসেনের ছেলে খন্দকার মাশরাফি (১২), উকিল মিয়ার ছেলে রাব্বানী (১০), মানিক মিয়ার ছেলে তোফায়েল (১২) এবং আব্দুল আওয়ালের ছেলে রাসেল (১৪)।


এছাড়া পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা কালাপানি এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে ইসরাফিল হোসেনও নিখোঁজ রয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাফিল ২৪ পারা কোরআনের হাফেজ।

কীভাবে নিখোঁজ হলো শিশুরা?

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকার তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর খন্দকার মাশরাফি নিখোঁজ হয়।

এর একদিন পর, রোববার দুপুরে পাঁচগাঁও ইকরা তালিমুল নূরানিয়া মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর রাব্বানী, তোফায়েল ও রাসেল নামে তিন শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

অন্যদিকে, ইসরাফিল হোসেন গত ২৭ মে থেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নির্ঘুম সময় কাটছে পরিবারগুলোর

নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা বলছেন, সন্তানদের খুঁজতে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা এবং পরিচিতদের কাছে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারগুলোর অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করে সন্ধান চেয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

এক স্বজন বলেন, “সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য উদ্বেগের। আমরা শুধু চাই তারা নিরাপদে ফিরে আসুক।”

এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি দেখা দিয়েছে।

তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা দরকার।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

তবে শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

শিশু নিখোঁজের ঘটনায় কী বলছেন সচেতন মহল?

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের পাশাপাশি প্রত্যেকটি সূত্র গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে নালিতাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজ শিশুদের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয়রা। পরিবারগুলোর অপেক্ষা এখন একটাই—প্রিয় সন্তানরা যেন দ্রুত সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় ফিরে আসে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর