বিভেদ, প্রতিহিংসা আর সংঘাতের রাজনীতি নয়—দেশের জনগণ এখন গুণগত ও দায়িত্বশীল রাজনীতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সমাবেশে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ আর পুরনো ধাঁচের রাজনৈতিক বিভাজন চায় না। তারা চায় উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা। তাই বিএনপি জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নমুখী রাজনীতি করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, কারণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
তারেক রহমান দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই হতাহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি যতই চেষ্টা করুক, ছাত্রদলকে দমন করতে পারেনি।”
এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই স্বৈরাচারী শাসন আবার ফিরে না আসে, সেজন্য ছাত্রসমাজকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে একটি ‘ফ্যাসিস্ট চক্র’ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার মতে, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে নিরাপদ শিক্ষার জায়গার পরিবর্তে রাজনৈতিক সহিংসতার কেন্দ্র বানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু দলীয় রাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনলাইন কেনাকাটার বৈশ্বিক সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা হবে এবং দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME) তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হলেও অতীতে অনেকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারেক রহমান দাবি করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম ভোট যেন ধানের শীষে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক।”
বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক আন্দোলন, নির্বাচন এবং সামাজিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপি ও ছাত্রদল অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, বিশেষ করে ৯০-এর দশক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে।
ই-কমার্স খাত বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র, যেখানে লাখো ছোট উদ্যোক্তা যুক্ত হচ্ছেন।
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে একদিকে রাজনৈতিক সংস্কার ও ক্যাম্পাস রাজনীতির পরিবর্তনের আহ্বান এসেছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব ঘোষণা বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৫
বিভেদ, প্রতিহিংসা আর সংঘাতের রাজনীতি নয়—দেশের জনগণ এখন গুণগত ও দায়িত্বশীল রাজনীতি চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদল আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সমাবেশে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ আর পুরনো ধাঁচের রাজনৈতিক বিভাজন চায় না। তারা চায় উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা। তাই বিএনপি জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নমুখী রাজনীতি করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এখন দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, কারণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর।
তারেক রহমান দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনে ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই হতাহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শক্তি যতই চেষ্টা করুক, ছাত্রদলকে দমন করতে পারেনি।”
এছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই স্বৈরাচারী শাসন আবার ফিরে না আসে, সেজন্য ছাত্রসমাজকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে একটি ‘ফ্যাসিস্ট চক্র’ দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তার মতে, শিক্ষাঙ্গনগুলোকে নিরাপদ শিক্ষার জায়গার পরিবর্তে রাজনৈতিক সহিংসতার কেন্দ্র বানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু দলীয় রাজনীতি নয়, জাতীয় রাজনীতি সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তারেক রহমান ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনলাইন কেনাকাটার বৈশ্বিক সুযোগকে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা হবে এবং দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (SME) তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হলেও অতীতে অনেকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারেক রহমান দাবি করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার একটি বড় সুযোগ হতে পারে।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, প্রথম ভোট যেন ধানের শীষে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “তারুণ্যের প্রথম ভোট, ধানের শীষের জন্য হোক।”
বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক আন্দোলন, নির্বাচন এবং সামাজিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপি ও ছাত্রদল অতীতে বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, বিশেষ করে ৯০-এর দশক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে।
ই-কমার্স খাত বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র, যেখানে লাখো ছোট উদ্যোক্তা যুক্ত হচ্ছেন।
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে একদিকে রাজনৈতিক সংস্কার ও ক্যাম্পাস রাজনীতির পরিবর্তনের আহ্বান এসেছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এসব ঘোষণা বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন