দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জলাশয়হীন আগারগাঁও এখন ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’, কংক্রিটের চাপে বাড়ছে তাপদাহের ঝুঁকি

জলাশয়হীন আগারগাঁও এখন ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’, কংক্রিটের চাপে বাড়ছে তাপদাহের ঝুঁকি

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অনলাইন সেবা চালু, ঘরে বসেই মিলছে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ

বেনাপোল সীমান্তে ৫ লাখ টাকার বেশি চোরাচালানী মালামাল আটক

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, জি-থ্রি রাইফেল ও ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

মণিরামপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ধামাচাপার চেষ্টারও দাবি

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৫০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ

মণিরামপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৬ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ, আটক ১

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অনলাইন সেবা চালু, ঘরে বসেই মিলছে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অনলাইন সেবা চালু, ঘরে বসেই মিলছে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার নতুন অনলাইন সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে প্রয়োজনীয় সুবিধা।

এক সময় পৌরসভার একটি সনদ কিংবা ট্রেড লাইসেন্সের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হতো নাগরিকদের। তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা চালু করেছে আধুনিক অনলাইন সেবা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো—সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অনেক বাসিন্দা এখনও এ সুবিধার কথা জানেন না।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে সেবা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের শুধু বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

পৌরসভার ওয়েবসাইট:

bancharampurpoura.gov.bd⁠�

ঘরে বসেই মিলছে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা

বর্তমানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন পৌরসেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নাগরিকদের পৌরসভায় বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমছে এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হচ্ছে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন স্বস্তি নিয়ে এসেছে। কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়ার অনেকাংশ এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।


প্রশাসকের উদ্যোগে সেবায় এসেছে গতি

পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান প্রশাসক রবিউল ইসলাম ভূইয়ার উদ্যোগে অনলাইন সেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগের ফলে নাগরিকদের সময় বাঁচছে, পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা সময়ের দাবি ছিল। বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার এই পদক্ষেপ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে ছোটখাটো কাজের জন্যও পৌরসভায় একাধিকবার যেতে হতো। এতে সময়ের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয়ও বাড়ত। এখন অনলাইনে তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক ঝামেলা কমেছে।

তাদের ভাষ্য, যারা দেশের বাইরে থাকেন বা কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত অফিসে যেতে পারেন না, তাদের জন্য এই সেবা বিশেষভাবে উপকারী। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক সেবা অনলাইনে যুক্ত করা হবে।

এখনও জানেন না অনেক মানুষ

যদিও সেবাটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, তবুও অনেক নাগরিক এখনও এ বিষয়ে অবগত নন। ফলে অনেকেই পুরোনো পদ্ধতিতে সেবা নিতে পৌরসভায় যাচ্ছেন।

এ কারণে পৌরসভার কর্মকর্তারা নাগরিকদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে সেবাগুলো সম্পর্কে জানার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, যত বেশি মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন, ততই সেবার কার্যকারিতা বাড়বে এবং নাগরিক ভোগান্তি কমবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে স্থানীয় উদ্যোগের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তর এখন শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং প্রয়োজন। নাগরিক সেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে সময়, অর্থ এবং শ্রম সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার বিস্তার যত বাড়ছে, মানুষের প্রত্যাশাও তত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন মানুষ দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা চায়। বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতে আরও প্রচারণা চালানো হলে অধিক সংখ্যক নাগরিক এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারবেন।

বিষয় : ডিজিটাল সেবা বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া খবর নাগরিক সনদ ট্রেড লাইসেন্স অনলাইন অনলাইন পৌরসেবা বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অনলাইন সেবা চালু, ঘরে বসেই মিলছে ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

এক সময় পৌরসভার একটি সনদ কিংবা ট্রেড লাইসেন্সের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হতো নাগরিকদের। তবে সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা চালু করেছে আধুনিক অনলাইন সেবা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো—সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অনেক বাসিন্দা এখনও এ সুবিধার কথা জানেন না।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে সেবা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের শুধু বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

পৌরসভার ওয়েবসাইট:

bancharampurpoura.gov.bd⁠�

ঘরে বসেই মিলছে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা

বর্তমানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন পৌরসেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নাগরিকদের পৌরসভায় বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমছে এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হচ্ছে।

বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন স্বস্তি নিয়ে এসেছে। কারণ প্রয়োজনীয় তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়ার অনেকাংশ এখন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।


প্রশাসকের উদ্যোগে সেবায় এসেছে গতি

পৌরসভা সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান প্রশাসক রবিউল ইসলাম ভূইয়ার উদ্যোগে অনলাইন সেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগের ফলে নাগরিকদের সময় বাঁচছে, পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও স্বচ্ছতা ও গতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ও স্থানীয় সেবাগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা সময়ের দাবি ছিল। বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার এই পদক্ষেপ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, আগে ছোটখাটো কাজের জন্যও পৌরসভায় একাধিকবার যেতে হতো। এতে সময়ের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয়ও বাড়ত। এখন অনলাইনে তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক ঝামেলা কমেছে।

তাদের ভাষ্য, যারা দেশের বাইরে থাকেন বা কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত অফিসে যেতে পারেন না, তাদের জন্য এই সেবা বিশেষভাবে উপকারী। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক সেবা অনলাইনে যুক্ত করা হবে।

এখনও জানেন না অনেক মানুষ

যদিও সেবাটি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, তবুও অনেক নাগরিক এখনও এ বিষয়ে অবগত নন। ফলে অনেকেই পুরোনো পদ্ধতিতে সেবা নিতে পৌরসভায় যাচ্ছেন।

এ কারণে পৌরসভার কর্মকর্তারা নাগরিকদের ওয়েবসাইট ভিজিট করে সেবাগুলো সম্পর্কে জানার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, যত বেশি মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন, ততই সেবার কার্যকারিতা বাড়বে এবং নাগরিক ভোগান্তি কমবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে স্থানীয় উদ্যোগের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তর এখন শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং প্রয়োজন। নাগরিক সেবাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে সময়, অর্থ এবং শ্রম সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার বিস্তার যত বাড়ছে, মানুষের প্রত্যাশাও তত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন মানুষ দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত সেবা চায়। বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার এই উদ্যোগ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, ভবিষ্যতে আরও প্রচারণা চালানো হলে অধিক সংখ্যক নাগরিক এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবা ব্যবস্থার সুফল ভোগ করতে পারবেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর