দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

সংকুচিত হচ্ছে জনশক্তি রপ্তানির বাজার,দুই মাসে কর্মী যাওয়া কমেছে ৩৬.৪৭ শতাংশ

সংকুচিত হচ্ছে জনশক্তি রপ্তানির বাজার,দুই মাসে কর্মী যাওয়া কমেছে ৩৬.৪৭ শতাংশ

দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণ

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, পাশে হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন, এটিএমে মিলবে নগদ টাকা

নিরাপদ পানির নিশ্চয়তায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা

পানিবণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বায়রার অনুমোদনের অপেক্ষা, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুরের প্রথম ইউনিট

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনা-জয়-পুতুলের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনা-জয়-পুতুলের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু।

পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ মামলায় অভিযোগ গঠন, শেখ হাসিনা ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মাধ্যমে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

তিনটি মামলায় একাধিক আসামি

আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪০ জনের বেশি।

  • একটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন
  • আরেকটিতে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন
  • তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন

সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।

বিচার প্রক্রিয়ার নতুন ধাপ শুরু

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করল। আদালত একই সঙ্গে আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠন মানে হলো আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি গ্রহণ করেছে এবং এখন প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার বিচার শুরু হবে।

কীভাবে শুরু হয় এই মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ ও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।

আদালতের আগের নির্দেশনা

এর আগে আদালত সব আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিযোগ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পূর্বাচল প্রকল্প ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকার অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

দুদকের ভূমিকা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করেছে।

সামনে কী হতে পারে

আইনজীবীদের মতে, আগামী সাক্ষ্য গ্রহণ পর্বই এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আসামিদের অনুপস্থিতি মামলাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

বিষয় : পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


প্লট দুর্নীতির ৩ মামলায় শেখ হাসিনা-জয়-পুতুলের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫

featured Image

পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ মামলায় অভিযোগ গঠন, শেখ হাসিনা ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মাধ্যমে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

তিনটি মামলায় একাধিক আসামি

আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪০ জনের বেশি।

  • একটি মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন
  • আরেকটিতে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন
  • তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জন

সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।

বিচার প্রক্রিয়ার নতুন ধাপ শুরু

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করল। আদালত একই সঙ্গে আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠন মানে হলো আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি গ্রহণ করেছে এবং এখন প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার বিচার শুরু হবে।

কীভাবে শুরু হয় এই মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ ও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।

আদালতের আগের নির্দেশনা

এর আগে আদালত সব আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিযোগ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

পূর্বাচল প্রকল্প ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকার অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

দুদকের ভূমিকা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করেছে।

সামনে কী হতে পারে

আইনজীবীদের মতে, আগামী সাক্ষ্য গ্রহণ পর্বই এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আসামিদের অনুপস্থিতি মামলাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর