রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মাধ্যমে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪০ জনের বেশি।
সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করল। আদালত একই সঙ্গে আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠন মানে হলো আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি গ্রহণ করেছে এবং এখন প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার বিচার শুরু হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ ও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।
এর আগে আদালত সব আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিযোগ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকার অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করেছে।
আইনজীবীদের মতে, আগামী সাক্ষ্য গ্রহণ পর্বই এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আসামিদের অনুপস্থিতি মামলাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
বিষয় : পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মাধ্যমে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনটি পৃথক মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪০ জনের বেশি।
সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করল। আদালত একই সঙ্গে আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ গঠন মানে হলো আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি গ্রহণ করেছে এবং এখন প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার বিচার শুরু হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ ও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।
এর আগে আদালত সব আসামিকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে অভিযোগ গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ঢাকার অন্যতম বৃহৎ আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে জনআস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশে সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। সংস্থাটি বিভিন্ন সময় উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করেছে।
আইনজীবীদের মতে, আগামী সাক্ষ্য গ্রহণ পর্বই এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের প্রমাণ উপস্থাপনের ভিত্তিতে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আসামিদের অনুপস্থিতি মামলাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন