দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভৈরবে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ: মহাসড়ক অবরোধ, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট, এসপির অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: প্রধান উপদেষ্টা
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভেতরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাস দমনে সরকারের নীতি জিরো টলারেন্স এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ৪০ মিনিটের এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থান দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকার দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ঘিরে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্ক বিষয়ক আলোচনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও বৈঠকে কথা হয়। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অগ্রগতির বিষয়েও অবহিত করেন। তিনি বলেন, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ঐক্য গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।”


বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আসছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয় এবং জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলে আসছে।

অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ও সংস্কার কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


উপসংহার:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়টি উঠে এসেছে। সরকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সহযোগিতাও শক্তিশালী হচ্ছে। এখন মূল নজর থাকবে এসব অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশের ভেতরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাস দমনে সরকারের নীতি জিরো টলারেন্স এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় ৪০ মিনিটের এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থান দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, সরকার দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ঘিরে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্ক বিষয়ক আলোচনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও বৈঠকে কথা হয়। উভয় পক্ষই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

প্রধান উপদেষ্টা এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অগ্রগতির বিষয়েও অবহিত করেন। তিনি বলেন, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ঐক্য গড়ে তুলতে কাজ করছে, যা দেশের স্থিতিশীল রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বে কমিশনের সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।”


বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আসছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয় এবং জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলে আসছে।

অন্যদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী ও সংস্কার কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


উপসংহার:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান এবং আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়টি উঠে এসেছে। সরকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সহযোগিতাও শক্তিশালী হচ্ছে। এখন মূল নজর থাকবে এসব অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর