কয়েক দফা পরিবর্তনের পর দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিস আবারও ফিরছে স্বাভাবিক সময়সূচিতে। আগামীকাল বুধবার থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ণ সময় অফিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি দপ্তর, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বেসরকারি অফিসগুলো আগামীকাল থেকেই পূর্ণ সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর প্রেক্ষাপটে অফিস সময়সূচিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়।
১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করা হয়। সেই সময় অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সীমিত সময় বা আংশিকভাবে চালু ছিল।
পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হলে প্রশাসন ধাপে ধাপে অফিস সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।
প্রথমে সীমিত সময়ের জন্য অফিস চালু রাখা হয়। পরে আংশিক শিথিলতার মাধ্যমে কর্মঘণ্টা কিছুটা বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় ঘণ্টা কর্মঘণ্টা চালু ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আবারও পূর্ণ সময়সূচি—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারি অফিস পূর্ণ সময় চালু হওয়ায় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাসপোর্ট, ভূমি, কর, ব্যাংকিংসহ নানা সরকারি সেবায় যে ধীরগতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতেও উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নিয়মিত সময়সূচি ফিরে আসায় তাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ হবে।
একজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অফিস সময় কম থাকায় অনেক কাজ আটকে ছিল। এখন পুরো সময় চালু হলে দ্রুত কাজ শেষ করা যাবে।”
ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, অফিস সময় স্বাভাবিক হওয়ায় লেনদেন ও কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থিতিশীল সময়সূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অফিস সময় সীমিত থাকলে শুধু সরকারি কাজই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত আগের রুটিনে ফেরা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সীমিত সময় চালু করা হয় এবং পরিস্থিতি উন্নত হলে আবার স্বাভাবিক সময় ফিরিয়ে আনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
একই সঙ্গে অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ অস্থিরতার পর অফিস সময়সূচি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রশাসনিক জীবন আবারও ছন্দে ফিরছে। আগামীকাল থেকে পূর্ণ সময় অফিস চালু হওয়ায় সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে—এই স্বাভাবিকতা কতটা স্থায়ী হয় এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন কীভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৪
কয়েক দফা পরিবর্তনের পর দেশের সরকারি ও বেসরকারি অফিস আবারও ফিরছে স্বাভাবিক সময়সূচিতে। আগামীকাল বুধবার থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ণ সময় অফিস চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বের স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি দপ্তর, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বেসরকারি অফিসগুলো আগামীকাল থেকেই পূর্ণ সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর প্রেক্ষাপটে অফিস সময়সূচিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়।
১৮ জুলাই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করা হয়। সেই সময় অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সীমিত সময় বা আংশিকভাবে চালু ছিল।
পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হলে প্রশাসন ধাপে ধাপে অফিস সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।
প্রথমে সীমিত সময়ের জন্য অফিস চালু রাখা হয়। পরে আংশিক শিথিলতার মাধ্যমে কর্মঘণ্টা কিছুটা বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় ঘণ্টা কর্মঘণ্টা চালু ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আবারও পূর্ণ সময়সূচি—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা—ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
সরকারি অফিস পূর্ণ সময় চালু হওয়ায় বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাসপোর্ট, ভূমি, কর, ব্যাংকিংসহ নানা সরকারি সেবায় যে ধীরগতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতেও উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নিয়মিত সময়সূচি ফিরে আসায় তাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ হবে।
একজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অফিস সময় কম থাকায় অনেক কাজ আটকে ছিল। এখন পুরো সময় চালু হলে দ্রুত কাজ শেষ করা যাবে।”
ব্যবসায়ীরাও আশা করছেন, অফিস সময় স্বাভাবিক হওয়ায় লেনদেন ও কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থিতিশীল সময়সূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অফিস সময় সীমিত থাকলে শুধু সরকারি কাজই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত আগের রুটিনে ফেরা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে অফিস সময়সূচি পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
এসব ক্ষেত্রে সাধারণত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে সীমিত সময় চালু করা হয় এবং পরিস্থিতি উন্নত হলে আবার স্বাভাবিক সময় ফিরিয়ে আনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
একই সঙ্গে অফিসগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেবার মান উন্নয়ন এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘ অস্থিরতার পর অফিস সময়সূচি স্বাভাবিক হওয়ায় প্রশাসনিক জীবন আবারও ছন্দে ফিরছে। আগামীকাল থেকে পূর্ণ সময় অফিস চালু হওয়ায় সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে—এই স্বাভাবিকতা কতটা স্থায়ী হয় এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন কীভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

আপনার মতামত লিখুন