নতুন সংবিধান, বিচার সংস্কার এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার দাবিতে রাজপথে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে তাদের দল।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত পদযাত্রা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে দলটির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিচারব্যবস্থার সংস্কার, নতুন সংবিধান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।” তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটকে তারা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, “সিলেট শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি সংগ্রামে এই অঞ্চলের মানুষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সিলেট সব সময় দেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চল এনসিপির শক্ত ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন-এ বসবাসরত সিলেটিদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
তার দাবি, “প্রবাসীদের ঘামে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। তাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।” এই বক্তব্যে প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সমাবেশের আগে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রাটি শহরের চৌহাট্টা এলাকা থেকে শুরু হয়ে রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মগুলো সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবি তুলছে। বিশেষ করে বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচনী কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। এই অঞ্চলের একটি বড় অংশ প্রবাসে থাকলেও দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশই আসে সিলেটি প্রবাসীদের কাছ থেকে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে, তবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এই ইস্যুটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, সিলেটের এই সমাবেশ থেকে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। বিচার সংস্কার, নতুন সংবিধান এবং প্রবাসীদের অধিকার—এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে তারা আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই দাবিগুলো কতটা জনসমর্থন পায় এবং দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৫
নতুন সংবিধান, বিচার সংস্কার এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার দাবিতে রাজপথে নেমেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে তাদের দল।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত পদযাত্রা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একটি পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে দলটির নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিচারব্যবস্থার সংস্কার, নতুন সংবিধান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমরা রাজপথে নেমেছি। জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।” তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, সিলেটকে তারা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, “সিলেট শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি সংগ্রামে এই অঞ্চলের মানুষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, সিলেট সব সময় দেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এই অঞ্চল এনসিপির শক্ত ঘাঁটি বা ‘দুর্গ’ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন-এ বসবাসরত সিলেটিদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
তার দাবি, “প্রবাসীদের ঘামে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। তাই তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।” এই বক্তব্যে প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সমাবেশের আগে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পদযাত্রাটি শহরের চৌহাট্টা এলাকা থেকে শুরু হয়ে রিকাবীবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মগুলো সংস্কার ও নতুন সংবিধানের দাবি তুলছে। বিশেষ করে বিচারব্যবস্থা ও নির্বাচনী কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। এই অঞ্চলের একটি বড় অংশ প্রবাসে থাকলেও দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশই আসে সিলেটি প্রবাসীদের কাছ থেকে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে অতীতেও আলোচনা হয়েছে, তবে তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এই ইস্যুটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, সিলেটের এই সমাবেশ থেকে এনসিপি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। বিচার সংস্কার, নতুন সংবিধান এবং প্রবাসীদের অধিকার—এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে তারা আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই দাবিগুলো কতটা জনসমর্থন পায় এবং দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

আপনার মতামত লিখুন