দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

আওয়ামী লীগ ফিরলে ‘প্রথম টার্গেট’ হবেন তারেক রহমান—রাজশাহীতে বিস্ফোরক মন্তব্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

উত্তরবঙ্গ এখনও বঞ্চনার শিকার, তিস্তা ঘিরে ক্ষোভের কথা বললেন শফিকুর রহমান

মালয়েশিয়ায় আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

ইডেন কলেজে মধ্যরাতের বিক্ষোভ, ‘রাজনীতিমুক্ত হল’ দাবিতে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান
ঢামেকে আহত চিকিৎসককে দেখতে গিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। -ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করে না: জামায়াত আমির

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও সরব হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে হামলায় আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সরকার সেটি প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।


মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

“হাসপাতাল নিরাপদ না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তার ভাষায়, “হাসপাতালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে চিকিৎসকরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এতে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা বা হাসপাতালে বিশৃঙ্খলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। চিকিৎসকদের একটি অংশ বলছেন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় কর্মপরিবেশ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অতীত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “অতীত সরকারের অদূরদর্শী কর্মকাণ্ড ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।”

তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই খাত পিছিয়ে পড়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো সরকারের নাম উল্লেখ করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে চলে এসেছে।


শরীয়তপুর হাসপাতালের ঘটনায় কী ঘটেছিল?

শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে সম্প্রতি চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় আহত হন চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম। ঘটনার পরপরই চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনায় “সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার” আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো পক্ষকে অযথা দোষারোপ না করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, “ন্যায়সংগত কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল। তবে কোথাও অন্যায় হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।”

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষের জেরে একাধিকবার ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো বারবার বলছে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ছাড়া ভালো চিকিৎসাসেবা সম্ভব নয়। অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময় যোগাযোগের ঘাটতি, দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বন্দ্বের পেছনে শুধু তাৎক্ষণিক রাগ নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের সংকটও কাজ করছে। জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও অবকাঠামোর অভাব, অতিরিক্ত চাপ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারবিরোধী নেতারা যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলছেন, সেখানে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয়—দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং সামাজিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং জনরোষ তৈরি হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।


মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে দীর্ঘদিনের হতাশা, চাপ ও অনিশ্চয়তা মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য উত্তেজনাও বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। আর এসব ঘটনা যখন হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ঘটে, তখন তা মানুষের মনে আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি করে।

এদিকে শরীয়তপুর হাসপাতালের ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

বিষয় : জামায়াত আমির, ডা শফিকুর রহমান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শরীয়তপুর হাসপাতাল হামলা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করে না: জামায়াত আমির

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও সরব হলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে হামলায় আহত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে দেখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সরকার সেটি প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না। তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে।


মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ডা. নাসির ইসলামের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতাল, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

“হাসপাতাল নিরাপদ না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তার ভাষায়, “হাসপাতালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে চিকিৎসকরা স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এতে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি দাবি করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলা বা হাসপাতালে বিশৃঙ্খলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। চিকিৎসকদের একটি অংশ বলছেন, হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় কর্মপরিবেশ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অতীত সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “অতীত সরকারের অদূরদর্শী কর্মকাণ্ড ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।”

তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই খাত পিছিয়ে পড়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো সরকারের নাম উল্লেখ করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো জনমত তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এখন রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রে চলে এসেছে।


শরীয়তপুর হাসপাতালের ঘটনায় কী ঘটেছিল?

শরীয়তপুর উপজেলা হাসপাতালে সম্প্রতি চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় আহত হন চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলাম। ঘটনার পরপরই চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের দাবি উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান এ ঘটনায় “সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার” আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো পক্ষকে অযথা দোষারোপ না করে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, “ন্যায়সংগত কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল। তবে কোথাও অন্যায় হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।”

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষের জেরে একাধিকবার ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো বারবার বলছে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ছাড়া ভালো চিকিৎসাসেবা সম্ভব নয়। অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক সময় যোগাযোগের ঘাটতি, দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থেকে উত্তেজনা তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বন্দ্বের পেছনে শুধু তাৎক্ষণিক রাগ নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের সংকটও কাজ করছে। জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও অবকাঠামোর অভাব, অতিরিক্ত চাপ, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় আস্থার সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারবিরোধী নেতারা যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলছেন, সেখানে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রায়ই দাবি করা হয়—দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা, হাসপাতালের পরিবেশ এবং সামাজিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং জনরোষ তৈরি হওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।


মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে দীর্ঘদিনের হতাশা, চাপ ও অনিশ্চয়তা মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য উত্তেজনাও বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। আর এসব ঘটনা যখন হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ঘটে, তখন তা মানুষের মনে আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি করে।

এদিকে শরীয়তপুর হাসপাতালের ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর