দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

রায়পুরায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় তুরাগ থানার বিশেষ প্রস্তুতি, ২৪ দিনে গ্রেপ্তার ২৯৬

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, পুনর্বাসন সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১৯, আহত অর্ধশতাধিক; দেশজুড়ে শোক

উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১৯, আহত অর্ধশতাধিক; দেশজুড়ে শোক
-ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো দেশের জন্যই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন হাসপাতালে হতাহতদের নেওয়া হয়। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-এ ১১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল-এ ২ জন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার-এ ২ জন এবং উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল-এ ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F-7 BGI training aircraft মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি দিয়াবাড়ী এলাকায় স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় এবং চারদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

ঘটনার সময় স্কুলটির জুনিয়র সেকশনে ক্লাস চলছিল। বিশেষ করে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে অবস্থান করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনে তখন ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমানটি ভবনে আঘাত করলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অভিভাবকরাও। অনেকে সন্তানদের খোঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা পুরো এলাকাকে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজে নামে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস-এর আটটি ইউনিট। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হতাহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল এবং প্রায় ১৩ মিনিট আকাশে থাকার পর এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পটভূমি (Background Information)

বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনা খুব বেশি ঘটে না, তবে অতীতে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যাই এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সামনে আসে।

উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকা দ্রুত নগরায়নের ফলে এখন ঘনবসতিপূর্ণ শিক্ষা ও আবাসিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ফলে এমন দুর্ঘটনা জনবহুল এলাকায় ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, শহরের ভেতরে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকার আগামী মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এছাড়া দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

উপসংহার

উত্তরার এই বিমান দুর্ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি বহু পরিবারের জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা—দুর্ঘটনার সঠিক কারণ দ্রুত বের করে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত: নিহত ১৯, আহত অর্ধশতাধিক; দেশজুড়ে শোক

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৫

featured Image


রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো দেশের জন্যই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন হাসপাতালে হতাহতদের নেওয়া হয়। এর মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ২ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল-এ ১১ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল-এ ২ জন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার-এ ২ জন এবং উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল-এ ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F-7 BGI training aircraft মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানটি দিয়াবাড়ী এলাকায় স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় এবং চারদিকে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এলাকা।

ঘটনার সময় স্কুলটির জুনিয়র সেকশনে ক্লাস চলছিল। বিশেষ করে নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওই ভবনে অবস্থান করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনে তখন ১০০ থেকে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বিমানটি ভবনে আঘাত করলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অভিভাবকরাও। অনেকে সন্তানদের খোঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েন, যা পুরো এলাকাকে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কাজে নামে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস-এর আটটি ইউনিট। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং হতাহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করেছিল এবং প্রায় ১৩ মিনিট আকাশে থাকার পর এটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পটভূমি (Background Information)

বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনা খুব বেশি ঘটে না, তবে অতীতে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা যান্ত্রিক সমস্যাই এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সামনে আসে।

উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকা দ্রুত নগরায়নের ফলে এখন ঘনবসতিপূর্ণ শিক্ষা ও আবাসিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ফলে এমন দুর্ঘটনা জনবহুল এলাকায় ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, শহরের ভেতরে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরকার আগামী মঙ্গলবার (২২ জুলাই) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এদিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

এছাড়া দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতার জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

উপসংহার

উত্তরার এই বিমান দুর্ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি বহু পরিবারের জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সবার প্রত্যাশা—দুর্ঘটনার সঠিক কারণ দ্রুত বের করে ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর