যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, সিটিগোল্ড সামগ্রীসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালানো হয়।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে আনা বিভিন্ন মালামাল তল্লাশি করে জব্দ করা হয়।
অভিযানে ৩৭টি ভারতীয় শাড়ি, একটি থ্রি-পিস, এক কেজি জিরা, দুই প্যাকেট ফুসকা, ২২ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৫৩টি সিটিগোল্ড আইটেম, ৪২১টি চকলেট এবং ৩০০টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় পোশাক, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের কিছু এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র বিভিন্ন সময় ছোট ছোট চালানে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় এসব তৎপরতা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।
একাধিক ব্যবসায়ীও বলছেন, বৈধ পথে আমদানি না করে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। চোরাই পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারায়।
এছাড়া মানহীন বা অনুমোদনহীন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেক সময় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেও পণ্য পাচারের চেষ্টা করে।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, সিটিগোল্ড সামগ্রীসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালানো হয়।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে আনা বিভিন্ন মালামাল তল্লাশি করে জব্দ করা হয়।
অভিযানে ৩৭টি ভারতীয় শাড়ি, একটি থ্রি-পিস, এক কেজি জিরা, দুই প্যাকেট ফুসকা, ২২ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৫৩টি সিটিগোল্ড আইটেম, ৪২১টি চকলেট এবং ৩০০টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় পোশাক, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের কিছু এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র বিভিন্ন সময় ছোট ছোট চালানে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় এসব তৎপরতা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।
একাধিক ব্যবসায়ীও বলছেন, বৈধ পথে আমদানি না করে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। চোরাই পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারায়।
এছাড়া মানহীন বা অনুমোদনহীন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেক সময় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেও পণ্য পাচারের চেষ্টা করে।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন