দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ডিএনসির অস্ত্র প্রশিক্ষণে সেরা হলেন বগুড়ার ডিডি জিললুর রহমান

ডিএনসির অস্ত্র প্রশিক্ষণে সেরা হলেন বগুড়ার ডিডি জিললুর রহমান

যশোরে ১২ লাখ টাকার জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ, চার ট্রাকে চলছিল ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের চেষ্টা

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ

নরসিংদীতে টিআরসি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন, পরবর্তী ধাপে মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা

ব্রাজিল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: বাণিজ্য ও সহযোগিতায় নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত

নওগাঁয় গভীর রাতে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় অভিযান, নগদ টাকা ও প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ আটক ১৫

ভিসা জটিলতায় স্থবির বেনাপোল, যাত্রী কমে বিপাকে সীমান্ত অর্থনীতি

শিল্পীদের সম্মান নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

নওগাঁয় গভীর রাতে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় অভিযান, নগদ টাকা ও প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ আটক ১৫

নওগাঁয় গভীর রাতে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় অভিযান, নগদ টাকা ও প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ আটক ১৫
মান্দায় অনলাইন জুয়ার আস্তানায় পুলিশের অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চালানো পৃথক দুই অভিযানে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া পরিচালনা ও অর্থ লেনদেন করা হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতজুড়ে মান্দা থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন

প্রথম অভিযানে তিনজন আটক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় রাত প্রায় ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রথম অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অনলাইনে জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার এবং মানুষকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।


আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. সোহেল হোসেন, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. সোহেল রানা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল হোসেনকে এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ এবং পাঁচটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভাড়া বাসায় চলত গোপন জুয়ার কার্যক্রম

একই রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয় মান্দা উপজেলার দিনবনি হাড়ি এলাকায়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফজলুর রহমানের একতলা বাড়ির নিচতলায় পরিচালিত ওই অভিযানে একটি গোপন অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কয়েকজন তরুণ দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সেখানে এসে অংশ নিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানকালে কক্ষজুড়ে সাজানো অবস্থায় একাধিক কম্পিউটার, মনিটর, কিবোর্ড ও ল্যাপটপ দেখতে পায় পুলিশ। প্রযুক্তি সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম চালানো হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অভিযানে আরও ১২ জন আটক

এই অভিযানে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিন, আল মামুন, শাকিল বাবু, বদিউজ্জামান ওরফে বিপ্লব, শাফায়েত রাব্বিসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৫টি মোবাইল ফোন, ১১টি কম্পিউটার সেটআপ, ১১টি মনিটর, ১১টি কিবোর্ড এবং তিনটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিক আইডি ও সার্ভারের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হতো। এছাড়া বিদেশি মুদ্রায় অবৈধ লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। কিছু ক্ষেত্রে ডলারে লেনদেনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার আড়ালে আরও কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত গভীর হলে ওই এলাকায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ত। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাননি।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, আটক হওয়া সবাই জুয়ার সঙ্গে জড়িত— এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অনলাইন জুয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, এটি পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এর সংযোগ পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত তদন্ত চালানো হচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : মান্দায় পুলিশের অভিযান নওগাঁ অনলাইন জুয়া অনলাইন জুয়া চক্র সাইবার অপরাধ বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


নওগাঁয় গভীর রাতে অনলাইন জুয়ার আস্তানায় অভিযান, নগদ টাকা ও প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ আটক ১৫

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চালানো পৃথক দুই অভিযানে ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া পরিচালনা ও অর্থ লেনদেন করা হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতজুড়ে মান্দা থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন

প্রথম অভিযানে তিনজন আটক

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় রাত প্রায় ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রথম অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অনলাইনে জুয়া পরিচালনা, অর্থপাচার এবং মানুষকে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।


আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. সোহেল হোসেন, মো. রবিউল ইসলাম ও মো. সোহেল রানা।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল হোসেনকে এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ এবং পাঁচটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও মনিটর জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভাড়া বাসায় চলত গোপন জুয়ার কার্যক্রম

একই রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয় মান্দা উপজেলার দিনবনি হাড়ি এলাকায়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফজলুর রহমানের একতলা বাড়ির নিচতলায় পরিচালিত ওই অভিযানে একটি গোপন অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কয়েকজন তরুণ দীর্ঘদিন ধরে বাসাটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সেখানে এসে অংশ নিতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানকালে কক্ষজুড়ে সাজানো অবস্থায় একাধিক কম্পিউটার, মনিটর, কিবোর্ড ও ল্যাপটপ দেখতে পায় পুলিশ। প্রযুক্তি সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম চালানো হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় অভিযানে আরও ১২ জন আটক

এই অভিযানে মোট ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আল আমিন, আল মামুন, শাকিল বাবু, বদিউজ্জামান ওরফে বিপ্লব, শাফায়েত রাব্বিসহ আরও কয়েকজন।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৫টি মোবাইল ফোন, ১১টি কম্পিউটার সেটআপ, ১১টি মনিটর, ১১টি কিবোর্ড এবং তিনটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিক আইডি ও সার্ভারের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হতো। এছাড়া বিদেশি মুদ্রায় অবৈধ লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য

পুলিশ বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। কিছু ক্ষেত্রে ডলারে লেনদেনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, অনলাইন জুয়ার আড়ালে আরও কিছু অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত গভীর হলে ওই এলাকায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ত। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাননি।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, আটক হওয়া সবাই জুয়ার সঙ্গে জড়িত— এমন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অনলাইন জুয়া নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় এসব প্ল্যাটফর্মে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়া শুধু আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে না, এটি পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ঋণ, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এর সংযোগ পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত তদন্ত চালানো হচ্ছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর