সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মৃত্যুর পর তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। তাই সাংবাদিকদের জন্যও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের গাছা এলাকায় বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খানের জানাজা শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা জীবদ্দশায় সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলেও তাদের জন্য আলাদা কোনো সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত নেই।
তার ভাষায়, “সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগামহীন কলমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ মৃত্যুর পর তাদের সম্মানজনক বিদায়ের বিষয়টি এখনো গুরুত্ব পায়নি।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দাফনে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি আরও সুস্পষ্ট হবে।
বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।
পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাইসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকে তাকে একজন দায়িত্বশীল, সাহসী ও সংগঠকসুলভ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন।
বিএমএসএফ নেতারা জানান, আব্দুল হামিদ খান ২০১৩ সাল থেকে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার আদায়ে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।
তাদের মতে, তার মৃত্যু সংগঠনের জন্য একটি বড় ক্ষতি।
জানাজায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান, দৈনিক একুশে বাণীর সম্পাদক আশরাফ সরকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গাজীপুর প্রেস ক্লাব, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, গাছা প্রেস ক্লাব, গাজীপুর মহানগর প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
উপস্থিত বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
আহমেদ আবু জাফরের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক সময় তারা কাঙ্ক্ষিত সম্মান ও নিরাপত্তা পান না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর সম্মানজনক ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল হামিদ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক সমাজের অধিকার আদায়ে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মৃত্যুর পর তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। তাই সাংবাদিকদের জন্যও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের গাছা এলাকায় বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খানের জানাজা শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা জীবদ্দশায় সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলেও তাদের জন্য আলাদা কোনো সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত নেই।
তার ভাষায়, “সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগামহীন কলমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ মৃত্যুর পর তাদের সম্মানজনক বিদায়ের বিষয়টি এখনো গুরুত্ব পায়নি।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দাফনে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি আরও সুস্পষ্ট হবে।
বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।
পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাইসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকে তাকে একজন দায়িত্বশীল, সাহসী ও সংগঠকসুলভ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন।
বিএমএসএফ নেতারা জানান, আব্দুল হামিদ খান ২০১৩ সাল থেকে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার আদায়ে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।
তাদের মতে, তার মৃত্যু সংগঠনের জন্য একটি বড় ক্ষতি।
জানাজায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান, দৈনিক একুশে বাণীর সম্পাদক আশরাফ সরকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গাজীপুর প্রেস ক্লাব, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, গাছা প্রেস ক্লাব, গাজীপুর মহানগর প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
উপস্থিত বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
আহমেদ আবু জাফরের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক সময় তারা কাঙ্ক্ষিত সম্মান ও নিরাপত্তা পান না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর সম্মানজনক ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করছেন তারা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল হামিদ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক সমাজের অধিকার আদায়ে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন