দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি বিএমএসএফ নেতার

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি বিএমএসএফ নেতার

সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি আজিজুল হক ও সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল

নওগাঁর নিয়ামতপুরে ১০০ টাকা নিয়ে বিরোধ, প্রাণ হারালেন আদিবাসী যুবক; অভিযুক্তের খোঁজে পুলিশ

দোকানে যেতে বেরিয়েই গুলিবিদ্ধ, ৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানল শিশু রেশমী

নরসিংদীতে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ব্রিফিং, স্বচ্ছতার নির্দেশ পুলিশ সুপারের

কড়াইল বস্তিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ চালু, উদ্বোধনে ডা. জুবাইদা রহমান

শাপলা চত্বরের মামলায় দীপু মনি, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মোসলেহ উদ্দিন ও শামীমা পারভীন

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি বিএমএসএফ নেতার

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি বিএমএসএফ নেতার
গাজীপুরে সাংবাদিক নেতা আব্দুল হামিদ খানের জানাজায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মৃত্যুর পর তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। তাই সাংবাদিকদের জন্যও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের গাছা এলাকায় বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খানের জানাজা শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কলমযুদ্ধ চালিয়েও সাংবাদিকরা অবমূল্যায়িত

আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা জীবদ্দশায় সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলেও তাদের জন্য আলাদা কোনো সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত নেই।


তার ভাষায়, “সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগামহীন কলমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ মৃত্যুর পর তাদের সম্মানজনক বিদায়ের বিষয়টি এখনো গুরুত্ব পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দাফনে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি আরও সুস্পষ্ট হবে।

সাংবাদিক নেতা আব্দুল হামিদ খানের মৃত্যুতে শোক

বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাইসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকে তাকে একজন দায়িত্বশীল, সাহসী ও সংগঠকসুলভ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন।

দীর্ঘদিন সাংবাদিকদের অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন

বিএমএসএফ নেতারা জানান, আব্দুল হামিদ খান ২০১৩ সাল থেকে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার আদায়ে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।

তাদের মতে, তার মৃত্যু সংগঠনের জন্য একটি বড় ক্ষতি।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা

জানাজায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান, দৈনিক একুশে বাণীর সম্পাদক আশরাফ সরকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গাজীপুর প্রেস ক্লাব, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, গাছা প্রেস ক্লাব, গাজীপুর মহানগর প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

উপস্থিত বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

সাংবাদিকদের মর্যাদা নিয়ে নতুন আলোচনা

আহমেদ আবু জাফরের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক সময় তারা কাঙ্ক্ষিত সম্মান ও নিরাপত্তা পান না।

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর সম্মানজনক ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করছেন তারা।

দোয়া ও শ্রদ্ধা জানালো সংগঠন

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল হামিদ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক সমাজের অধিকার আদায়ে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

বিষয় : সাংবাদিকদের মর্যাদা বিএমএসএফ আব্দুল হামিদ খান সাংবাদিক অধিকার আন্দোলন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬


সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি বিএমএসএফ নেতার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

সাংবাদিকদের মৃত্যুর পর সামাজিক মর্যাদায় দাফনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বলেন, সমাজে অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও মৃত্যুর পর তারা প্রাপ্য সম্মান পান না। তাই সাংবাদিকদের জন্যও সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে দাফনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় গাজীপুরের গাছা এলাকায় বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খানের জানাজা শেষে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কলমযুদ্ধ চালিয়েও সাংবাদিকরা অবমূল্যায়িত

আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা জীবদ্দশায় সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলেও তাদের জন্য আলাদা কোনো সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত নেই।


তার ভাষায়, “সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে লাগামহীন কলমযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ মৃত্যুর পর তাদের সম্মানজনক বিদায়ের বিষয়টি এখনো গুরুত্ব পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দাফনে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে গণমাধ্যমকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি আরও সুস্পষ্ট হবে।

সাংবাদিক নেতা আব্দুল হামিদ খানের মৃত্যুতে শোক

বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ভারতসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান, ভাইসহ অসংখ্য সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকে তাকে একজন দায়িত্বশীল, সাহসী ও সংগঠকসুলভ ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করেন।

দীর্ঘদিন সাংবাদিকদের অধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন

বিএমএসএফ নেতারা জানান, আব্দুল হামিদ খান ২০১৩ সাল থেকে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার আদায়ে তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।

তাদের মতে, তার মৃত্যু সংগঠনের জন্য একটি বড় ক্ষতি।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা

জানাজায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান, দৈনিক একুশে বাণীর সম্পাদক আশরাফ সরকারসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া গাজীপুর প্রেস ক্লাব, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, গাছা প্রেস ক্লাব, গাজীপুর মহানগর প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

উপস্থিত বক্তারা মরহুমের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

সাংবাদিকদের মর্যাদা নিয়ে নতুন আলোচনা

আহমেদ আবু জাফরের বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক সময় তারা কাঙ্ক্ষিত সম্মান ও নিরাপত্তা পান না।

বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক নীতি, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর সম্মানজনক ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


তবে এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট মহলের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার বলেও মনে করছেন তারা।

দোয়া ও শ্রদ্ধা জানালো সংগঠন

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুল হামিদ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিক সমাজের অধিকার আদায়ে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর