কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে রাখা নিয়ে চলমান শুনানিতে কড়া মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, “যাকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে খাবার টেবিলে বসিয়ে ছবি দেখিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা ঠিক নয়।”
সোমবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মন্তব্য আসে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও তাদের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে বিষয়টি উঠে আসে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে তাদের নিরাপত্তার জন্য ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং তারা সেখানে খাবার গ্রহণ করছেন। এ সময় আদালত এ ধরনের ব্যবস্থাপনা ও প্রচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রিটে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা এবং ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, তাদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী, এস এম মুনীর ও শেখ মো. মোরসেদ। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন-অর-রশীদের একটি পোস্টে ছয় সমন্বয়ককে খাবার টেবিলে বসে নাশতা করার ছবি প্রকাশ পায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছে। এর আগেও ২০১৮ সালে বড় আন্দোলনের পর কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এই আন্দোলন আবারও সক্রিয় হয়ে উঠলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এটি কি নিরাপত্তা, নাকি নিয়ন্ত্রণ?
আদালতের এই মন্তব্য ও রিট শুনানি থেকে স্পষ্ট যে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অবস্থান, ডিবি হেফাজতের যৌক্তিকতা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা—সবকিছু নিয়েই এখন নজর রয়েছে আদালত ও জনমতের দিকে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ও প্রশাসনের অবস্থানের ওপর।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৪
কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে ডিবি হেফাজতে রাখা নিয়ে চলমান শুনানিতে কড়া মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, “যাকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে খাবার টেবিলে বসিয়ে ছবি দেখিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা ঠিক নয়।”
সোমবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মন্তব্য আসে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও তাদের ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে বিষয়টি উঠে আসে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে তাদের নিরাপত্তার জন্য ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং তারা সেখানে খাবার গ্রহণ করছেন। এ সময় আদালত এ ধরনের ব্যবস্থাপনা ও প্রচার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রিটে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা এবং ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, তাদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রীতম ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা লিপি। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী, এস এম মুনীর ও শেখ মো. মোরসেদ। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন-অর-রশীদের একটি পোস্টে ছয় সমন্বয়ককে খাবার টেবিলে বসে নাশতা করার ছবি প্রকাশ পায়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছে। এর আগেও ২০১৮ সালে বড় আন্দোলনের পর কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এই আন্দোলন আবারও সক্রিয় হয়ে উঠলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটে বলে জানা যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এটি কি নিরাপত্তা, নাকি নিয়ন্ত্রণ?
আদালতের এই মন্তব্য ও রিট শুনানি থেকে স্পষ্ট যে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অবস্থান, ডিবি হেফাজতের যৌক্তিকতা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকা—সবকিছু নিয়েই এখন নজর রয়েছে আদালত ও জনমতের দিকে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা ও প্রশাসনের অবস্থানের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন