বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অর্থায়নসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে।
সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে কি না। জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য সরকারের হাতে তিনটি প্রস্তাবনা রয়েছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট।
মন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনটি সম্ভাব্য রুট বিবেচনায় আছে। এর মধ্যে আপনারা যে রুটের কথা বলছেন, সেটি এক নম্বর প্রস্তাবনা হিসেবে রয়েছে।”
তবে এখনো চূড়ান্তভাবে কোন স্থানে সেতুটি নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যানবাহনের চাপ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থায়নের বিষয়টিকে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলেছি—এটা বলতে পারি। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। এখন অর্থায়নের জায়গা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিও এগোচ্ছে।”
তবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয়, বিদেশি সহায়তা থাকবে কি না, কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) হবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মন্ত্রী।
অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কিংবা বৈদেশিক ঋণ সহায়তার দিকেও সরকারকে নজর দিতে হতে পারে।
বর্তমান পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখনো উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময় এ রুটে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। প্রায়ই ফেরি দুর্ঘটনা, ঘাটে বিশৃঙ্খলা এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে। একটি সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হতে পারে।
মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, ফেরিনির্ভর যোগাযোগের কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়ছে।
সচিবালয়ের বৈঠকে মূলত আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রতি বছর ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট নতুন কিছু নয়।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের একটি অংশ বলছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনাকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছেন।
যোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সড়কপথে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একাধিক বড় সেতু ও বিকল্প রুট এখন সময়ের দাবি।
তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই হবে না; এর সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক, টোল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি দেশের আঞ্চলিক ভারসাম্য উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যেসব অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পিছিয়ে ছিল, সেখানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়েও জনমনে প্রশ্ন থাকে। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠতে পারে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য রুট নির্বাচন, অর্থায়ন কাঠামো এবং কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে বা কত সময় লাগতে পারে—এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে কাজ থেমে নেই এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ করতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অর্থায়নসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে।
সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকরা জানতে চান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে কি না। জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য সরকারের হাতে তিনটি প্রস্তাবনা রয়েছে এবং এর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুট।
মন্ত্রী বলেন, “দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনটি সম্ভাব্য রুট বিবেচনায় আছে। এর মধ্যে আপনারা যে রুটের কথা বলছেন, সেটি এক নম্বর প্রস্তাবনা হিসেবে রয়েছে।”
তবে এখনো চূড়ান্তভাবে কোন স্থানে সেতুটি নির্মাণ হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যানবাহনের চাপ, অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থায়নের বিষয়টিকে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, “আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলেছি—এটা বলতে পারি। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। এখন অর্থায়নের জায়গা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিও এগোচ্ছে।”
তবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয়, বিদেশি সহায়তা থাকবে কি না, কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) হবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মন্ত্রী।
অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কিংবা বৈদেশিক ঋণ সহায়তার দিকেও সরকারকে নজর দিতে হতে পারে।
বর্তমান পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এখনো উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষ করে ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময় এ রুটে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। প্রায়ই ফেরি দুর্ঘটনা, ঘাটে বিশৃঙ্খলা এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিয়ে অভিযোগ ওঠে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আরও বিকেন্দ্রীকরণ হবে। একটি সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপও কমবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হতে পারে।
মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, ফেরিনির্ভর যোগাযোগের কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়ছে।
সচিবালয়ের বৈঠকে মূলত আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রতি বছর ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট নতুন কিছু নয়।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের একটি অংশ বলছেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনাকে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছেন।
যোগাযোগ বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সড়কপথে যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে একাধিক বড় সেতু ও বিকল্প রুট এখন সময়ের দাবি।
তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, শুধু সেতু নির্মাণ করলেই হবে না; এর সঙ্গে সংযুক্ত মহাসড়ক, টোল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের পুনর্বাসনের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি দেশের আঞ্চলিক ভারসাম্য উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে যেসব অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ পিছিয়ে ছিল, সেখানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়েও জনমনে প্রশ্ন থাকে। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠতে পারে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পটি এখনো প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য রুট নির্বাচন, অর্থায়ন কাঠামো এবং কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে বা কত সময় লাগতে পারে—এ বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে কাজ থেমে নেই এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন