নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্নে আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই বিএনপি। দলটি এখন বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে না; বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া হবে সংস্কার কাজের জন্য।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে সবাই একমত হন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কার জরুরি, আর সে কাজ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া দরকার।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিএনপি। এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। একইভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তবে সর্বশেষ বৈঠকে নেতারা মত দেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ না করাই যুক্তিযুক্ত।
দলের একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি ইতোমধ্যে প্রশাসন ও অর্থনৈতিক খাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আস্থা তৈরি করেছে। তাই এই সরকারকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি নতুন সরকার মাত্র দায়িত্ব নিয়েছে, এমন সময় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। সময় হলে সরকার নিজেরাই নির্বাচনের ঘোষণা দেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড-এর পুনঃতদন্ত দাবি করা। ওই ঘটনায় ঢাকার পিলখানা-এ বিডিআর বিদ্রোহের সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বিএনপি মনে করছে, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা। সে সময়কার তদন্ত ও বিচার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই নতুন করে তদন্তের দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া বৈঠকে দলের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘটা করে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। এই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকের পরদিন শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের নতুন স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এই নমনীয় অবস্থান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই অবস্থানকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং সামনের দিনে নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৪
নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্নে আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই বিএনপি। দলটি এখন বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে না; বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া হবে সংস্কার কাজের জন্য।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তে সবাই একমত হন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কার জরুরি, আর সে কাজ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া দরকার।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন নিয়ে আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে বিএনপি। এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। একইভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তবে সর্বশেষ বৈঠকে নেতারা মত দেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন কঠোর সময়সীমা নির্ধারণ না করাই যুক্তিযুক্ত।
দলের একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্যের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি ইতোমধ্যে প্রশাসন ও অর্থনৈতিক খাতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আস্থা তৈরি করেছে। তাই এই সরকারকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত বলেই মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একটি নতুন সরকার মাত্র দায়িত্ব নিয়েছে, এমন সময় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ঠিক হবে না। সময় হলে সরকার নিজেরাই নির্বাচনের ঘোষণা দেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড-এর পুনঃতদন্ত দাবি করা। ওই ঘটনায় ঢাকার পিলখানা-এ বিডিআর বিদ্রোহের সময় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বিএনপি মনে করছে, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।
পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বেদনাদায়ক ঘটনা। সে সময়কার তদন্ত ও বিচার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই নতুন করে তদন্তের দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া বৈঠকে দলের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘটা করে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। এই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈঠকের পরদিন শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের নতুন স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরে সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এই নমনীয় অবস্থান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই অবস্থানকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং সামনের দিনে নির্বাচন ও সংস্কার প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

আপনার মতামত লিখুন