সংসদে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ: সেলিমা রহমান
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ভূমিকাও দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন Selima Rahman। তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত আসনে যারা সংসদে আসছেন, তারা সবাই অভিজ্ঞ এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ????????
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে সংরক্ষিত নারী আসনে নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন Selima Rahman। তিনি বলেন, সংসদে যারা এসেছেন তারা সবাই রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ব এবং দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে মাঠে থেকে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের উন্নয়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাই একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দীর্ঘদিন ধরে যেসব মানুষ বঞ্চিত অবস্থায় জীবন কাটিয়েছেন, তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা যেসব এলাকায় কাজ করবেন, সেখানে আগে থেকেই একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকেন—এ নিয়ে কাজ করতে কোনো সমস্যা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে Selima Rahman বলেন, বিষয়টি মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। কোথায় এবং কীভাবে তারা কাজ করবেন, তা দল থেকেই নির্ধারণ করা হয়। ফলে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে আরেক প্রার্থী Shirin Sultana বলেছেন, দেশে নারীদের উন্নয়ন নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই অনুযায়ী উদ্যোগ কম দেখা যায়। তিনি বলেন, সংসদে সুযোগ পেলে নারীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে চান। পাশাপাশি সমাজে ছড়িয়ে পড়া মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র মোর্চার প্রার্থী Sultana Jesmin বলেছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি মনে করেন, শুধু নারীদের উন্নয়ন নয়—পুরো জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কর্মমুখী শিক্ষা ও কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব খাতে সংসদে সক্রিয়ভাবে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি
বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যেখানে দলীয় প্রতিনিধিত্ব অনুযায়ী নারী সদস্যরা মনোনীত হন। এই ব্যবস্থার ফলে জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং মতামত তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী সদস্যরা সরাসরি নির্বাচিত না হলেও সংসদীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে নারী অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নীতিনির্ধারণে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের নতুন সদস্যদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। বরং গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, বৈষম্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে রেখে কাজ করতে চান। এখন দেখার বিষয়, সংসদে তাদের এই অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত হয়।