দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লিটনের স্বস্তির পঞ্চাশ
আড়াই বছরের অপেক্ষা শেষ হলো অবশেষে। দীর্ঘ ১৮ ইনিংস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে আবারও ফিফটির দেখা পেলেন Litton Das। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজের খারাপ সময় কাটানোর ইঙ্গিত দিলেন এই টাইগার ওপেনার। বৃহস্পতিবার Chattogram-এ চলমান ম্যাচে ৭১ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন। এই ফিফটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে রান খরায় ভোগা এই ব্যাটারের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় বার্তাও। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৬৬ রান করার পর আর কোনো অর্ধশতক পাননি তিনি।এরপরের সময়টা লিটনের জন্য ছিল বেশ কঠিন। টানা ৯ ইনিংসে তিনি দুই অঙ্কেও পৌঁছাতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১৮ ইনিংসে মাত্র ২৯৫ রান করেন তিনি, গড় ছিল ১৮.৪৩ এবং স্ট্রাইক রেট ৭১.৪২। একজন ওপেনার হিসেবে এই পরিসংখ্যান তার মান অনুযায়ী অনেকটাই নিচে ছিল। ফলে একসময় দল থেকেও বাদ পড়তে হয় তাকে।দলে ফেরার পর তার ব্যাটিং পজিশনেও পরিবর্তন আনা হয়। কখনও ওপেনিং, কখনও আবার মিডল অর্ডারে নামতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বড় ইনিংস আর আসছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ফিফটি লিটনের জন্য মানসিকভাবে অনেক বড় স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে।এই ম্যাচে লিটনের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন অধিনায়ক Najmul Hossain Shanto। দু’জন মিলে চতুর্থ উইকেটে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৩৪ রানের জুটি। এই জুটির ওপর ভর করেই ৩৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৬৬ রান। তখন শান্ত খেলছিলেন ৮৮ রানে এবং লিটনের সংগ্রহ ছিল ৫৪ রান।বিশেষ করে ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের কয়েকটি দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এই জুটিটি দলের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্ত ও লিটনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে আবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনমতো আক্রমণ—যা দীর্ঘদিন পর লিটনের ব্যাটিংয়ে আবার দেখা গেল।লিটন দাস বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের নিয়মিত ওপেনার হিসেবে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ধারাবাহিক কয়েকটি ম্যাচে তার ব্যাটিং বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর ছন্দ হারিয়ে ফেলায় দলও কিছুটা ভুগছিল। তাই তার এই ফর্মে ফেরা দলীয় ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।অন্যদিকে চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই ব্যাটসম্যানদের জন্য তুলনামূলক সহায়ক হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানেই বাংলাদেশের অনেক ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লিটনের ব্যাটেও দেখা গেল আত্মবিশ্বাসী শট খেলার ছাপ।সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৪৬ রানের একটি ভালো ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। যদিও তখন অল্পের জন্য ফিফটি মিস করেছিলেন, তবে সেটিই ছিল তার ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই ইঙ্গিতকে বাস্তবে রূপ দিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পর ওয়ানডেতে লিটনের এই অর্ধশতক শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দলের জন্যও ইতিবাচক বার্তা। সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে যদি তিনি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের টপ অর্ডার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে—এমনটাই আশা করছেন সমর্থকরা।