হবিগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ বাইপাস সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তারা। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।শনিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পোদ্দারবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সদর উপজেলার সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম (৫৫) ও তাঁর ছেলে জাকির হোসেন (২০)। একসঙ্গে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রাতের যাত্রা শেষ হলো মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে আব্দুল কাইয়ুম তাঁর ছেলে জাকির হোসেনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ধুলিয়াখালের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও বাইপাস সড়কে ভারী যানবাহনের উপস্থিতি ছিল।[TECHTARANGA-POST:1334]পথে পোদ্দারবাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে আঘাত করে। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাবা-ছেলে দুজনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন।ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকদুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। রাতেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন আশপাশের মানুষ। অনেকেই জানান, ওই বাইপাস সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক বা ভারী যানবাহনের কারণে ঝুঁকি আরও বাড়ে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতে এই সড়কে অনেক ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় দূর থেকে বুঝতে সমস্যা হয়। কয়েক সেকেন্ডের ভুলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়।”তবে দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি সড়কের কোন অংশে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সেটি নিয়ম মেনে পার্ক করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পরিবারের ওপর নেমে এলো শোকের ছায়াএকই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে সুলতান মাহমুদপুর গ্রামে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল কাইয়ুম পরিবারটির প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ছেলে জাকিরও বাবার সঙ্গে পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন।হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এক প্রতিবেশী বলেন, “সন্ধ্যার পরও কেউ ভাবতে পারেনি যে বাবা-ছেলে আর ঘরে ফিরবেন না। এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।”নিহতদের স্বজনরা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মহাসড়ক ও বাইপাস সড়কে রাতের বেলায় অনেক যানবাহন এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1316]পুলিশের বক্তব্যহবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্রাকটি কী কারণে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হবে।এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রশ্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থায়দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সম্প্রতি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলের দাবি। বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত গতি, অপর্যাপ্ত আলো, সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ভারী যান এবং নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল চালকদের জন্য আলাদা সচেতনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সড়কে অনিয়মিতভাবে ট্রাক বা বাস দাঁড় করানোর প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এসব যানবাহনে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সংকেত বা রিফ্লেক্টর না থাকায় দূর থেকে চালকদের পক্ষে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ বাইপাস সড়কে রাতের বেলায় নজরদারি বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা চিহ্ন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং ট্রাফিক মনিটরিং বাড়ানোর দাবি উঠেছে।তদন্তের অপেক্ষায় স্বজনরাদুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার সকালে এলাকায় তাদের দাফনের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।এদিকে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, শুধু দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং কেন বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।[TECHTARANGA-POST:1288]
পরিবারের সদস্যরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তারা আপন দুইজন মানুষকে হারিয়েছেন। স্বজনদের আশা, তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।