নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে একজন যুবককে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ মোট দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রূপগঞ্জ থানার এসআই হারুনুর রশিদ এবং সার্বিক তদারকিতে ছিলেন অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম সালাউদ্দিন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চন ব্রিজের ঢাকামুখী সড়কের ঢালে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি দেখে তাকে থামানো হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিফাত (২৪) বলে জানানো হয়েছে। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মোবারক ভূইয়া।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা ছিনতাই কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পাশাপাশি আরও একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কাঞ্চন ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাতের দিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্জন সড়কগুলোতে চলাচলকারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“রাতে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় ভয় লাগে। কিছুদিন ধরে এমন ঘটনা বাড়ছে। পুলিশের এই অভিযান ভালো উদ্যোগ, তবে এটা নিয়মিত হওয়া দরকার।”
আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, ছিনতাইয়ের কারণে অনেকেই রাতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চাইছেন না।
রূপগঞ্জের মতো ঢাকা-সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে দিন-রাত যান চলাচল অব্যাহত থাকে।
এই ধরনের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা নয়, সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারি এবং রাতের টহল আরও জোরদার করা জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের সময় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
রূপগঞ্জে পুলিশের এই অভিযান নিঃসন্দেহে এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু একক অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় পুলিশের এই সফল অভিযান সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে একজন যুবককে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ মোট দুইটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রূপগঞ্জ থানার এসআই হারুনুর রশিদ এবং সার্বিক তদারকিতে ছিলেন অফিসার ইনচার্জ এ এইচ এম সালাউদ্দিন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাঞ্চন ব্রিজের ঢাকামুখী সড়কের ঢালে সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি দেখে তাকে থামানো হয়। প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম রিফাত (২৪) বলে জানানো হয়েছে। তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মোবারক ভূইয়া।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা ছিনতাই কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পাশাপাশি আরও একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এছাড়া এ ঘটনায় আরও অন্তত দুইজনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কাঞ্চন ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাতের দিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নির্জন সড়কগুলোতে চলাচলকারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“রাতে বাড়ি ফিরতে অনেক সময় ভয় লাগে। কিছুদিন ধরে এমন ঘটনা বাড়ছে। পুলিশের এই অভিযান ভালো উদ্যোগ, তবে এটা নিয়মিত হওয়া দরকার।”
আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, ছিনতাইয়ের কারণে অনেকেই রাতে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে চাইছেন না।
রূপগঞ্জের মতো ঢাকা-সংলগ্ন এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় অপরাধীরা সহজেই সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে দিন-রাত যান চলাচল অব্যাহত থাকে।
এই ধরনের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলে শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা নয়, সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারি এবং রাতের টহল আরও জোরদার করা জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের সময় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
রূপগঞ্জে পুলিশের এই অভিযান নিঃসন্দেহে এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শুধু একক অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা ছাড়া এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় পুলিশের এই সফল অভিযান সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন