দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সিগারেট বাজারে নজরদারি জোরদার, নতুন কর আপাতত নয়

সিগারেট বাজারে নজরদারি জোরদার, নতুন কর আপাতত নয়

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অভিযানে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ৯১ হাজার টাকা জরিমানা

নওগাঁর আত্রাইয়ে ঝড়ে গাছ পড়ে অন্তঃসত্ত্বা বেদে পল্লীর গৃহবধূর মৃত্যুে: পরিদর্শনে এসপি তারিকুল ইসলাম

পটুয়াখালীর ছোট বিঘাইয়ে ভয়াবহ আগুন, মুহূর্তে পুড়ে ছাই বাজারের একাংশ

মান্দায় পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ‘শীর্ষ মাদক কারবারি

কক্সবাজার সীমান্তে চোরাচালান দমনে অভিযান, মিললো গোলাবারুদ ও অস্ত্র

দুর্গাপুরে রাতের অভিযানে দুই যুবক গ্রেপ্তার, উদ্ধার ভারতীয় মদ

যশোরে পৌঁছে ব্যস্ত দিন কাটাবেন তারেক রহমান, একাধিক কর্মসূচি উদ্বোধন

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অভিযানে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ৯১ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অভিযানে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ৯১ হাজার টাকা জরিমানা
-ফাইল ফটো

খুলনা বিভাগজুড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চালিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একযোগে ৬টি টিম মাঠে নামে। অভিযানে চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, মুরগি ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করে দেখা হয় ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত নিয়ম মানছেন কি না।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

খুলনা মহানগরীতে সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে সদর থানার সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে রয়েল চারমি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মেহেরপুরে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে দিঘীরপাড় ও ঝাউবাড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইয়ামিন স্টোরকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট বাজারে সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেঘনা আইসক্রিম নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ পণ্য বিক্রির অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা এই দিনের সর্বোচ্চ জরিমানা।

সাতক্ষীরার সনাতনি বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স গাজী স্টোরকে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার দায়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে সাউথ সেন্ট্রাল রোড ও বাবু খান রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সোনিয়া’স ড্রিম মেক ওভারকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার জন্য ৩ হাজার টাকা এবং ব্লুজ ক্যাফেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাইদুল স্টোরকে পণ্যের মোড়ক ঠিকভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাগুরার শ্রীপুর বাজারে সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সূর্যতরি স্টোরকে ৩ হাজার টাকা এবং মজিদ স্টোরকে মূল্য তালিকা না দেখানোর কারণে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঝিনাইদহের কাঞ্চনপুর বাজারে সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সুজন আইসক্রিমকে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদনের দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সব মিলিয়ে এই অভিযানে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রমজান, ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় এসব অভিযান আরও জোরদার করা হয়, কারণ এ সময় বাজারে অনিয়মের প্রবণতা বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ব্যবসায়ী এখনও নিয়ম মেনে চলেন না। কেউ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করেন না, আবার কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করেন। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত তদারকি জরুরি।

অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সচেতন করার ওপরও জোর দেন। তারা বলেন, ব্যবসা করতে হলে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে।

জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের এই তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু জরিমানা করলেই হবে না, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমান জরুরি। এতে করে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই উপকৃত হবে।

বিষয় : প্রতিষ্ঠান খুলনা ভোক্তা অধিকার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


খুলনায় ভোক্তা অধিকার অভিযানে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ৯১ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খুলনা বিভাগজুড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান চালিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের সমন্বয়ে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একযোগে ৬টি টিম মাঠে নামে। অভিযানে চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, মুরগি ও ডিমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করে দেখা হয় ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত নিয়ম মানছেন কি না।

অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিকভাবে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

খুলনা মহানগরীতে সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে সদর থানার সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে রয়েল চারমি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মেহেরপুরে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে দিঘীরপাড় ও ঝাউবাড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ইয়ামিন স্টোরকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট বাজারে সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেঘনা আইসক্রিম নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ পণ্য বিক্রির অপরাধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা এই দিনের সর্বোচ্চ জরিমানা।

সাতক্ষীরার সনাতনি বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মেসার্স গাজী স্টোরকে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার দায়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে সাউথ সেন্ট্রাল রোড ও বাবু খান রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সোনিয়া’স ড্রিম মেক ওভারকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রাখার জন্য ৩ হাজার টাকা এবং ব্লুজ ক্যাফেকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদনের জন্য ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর বাজারে সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সাইদুল স্টোরকে পণ্যের মোড়ক ঠিকভাবে ব্যবহার না করার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাগুরার শ্রীপুর বাজারে সহকারী পরিচালক মো. সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। সূর্যতরি স্টোরকে ৩ হাজার টাকা এবং মজিদ স্টোরকে মূল্য তালিকা না দেখানোর কারণে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঝিনাইদহের কাঞ্চনপুর বাজারে সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সুজন আইসক্রিমকে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদনের দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সব মিলিয়ে এই অভিযানে ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এর মূল লক্ষ্য হলো বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রমজান, ঈদ বা অন্যান্য উৎসবের সময় এসব অভিযান আরও জোরদার করা হয়, কারণ এ সময় বাজারে অনিয়মের প্রবণতা বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ব্যবসায়ী এখনও নিয়ম মেনে চলেন না। কেউ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করেন না, আবার কেউ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করেন। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে নিয়মিত তদারকি জরুরি।

অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সচেতন করার ওপরও জোর দেন। তারা বলেন, ব্যবসা করতে হলে নিয়ম মেনে চলতেই হবে। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতে হবে।

জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

সব দিক বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের এই তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে শুধু জরিমানা করলেই হবে না, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলাও সমান জরুরি। এতে করে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই উপকৃত হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর