যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন এক উন্নয়ন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজ সকালে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে যশোরে পৌঁছান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
সকালেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তাদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উল্লেখযোগ্য। অভ্যর্থনা শেষে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে শার্শার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বিমানবন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত পুরো সড়কপথ যেন মানুষের ঢলে ভরে যায়। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। কোথাও ফুল ছিটিয়ে, কোথাও স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। জনতার ভিড়ের কারণে গাড়িবহরকে ধীরে ধীরে এগোতে দেখা যায়। অনেকেই বলছিলেন, এত বড় জনসমাগম তারা দীর্ঘদিন পর দেখলেন।
শার্শার উলশী এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের কাছে এই খাল শুধু একটি জলপথ নয়, এটি তাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি এবং পরিবেশগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে পুনঃখননের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সত্তরের দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে “উলশী-যদুনাথপুর” খাল খনন করা হয়েছিল। সে সময় এই প্রকল্প স্থানীয় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। খালের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং চাষাবাদে গতি আসে। অনেকেই এটিকে একটি সফল গণঅংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে মনে করেন।
বর্তমান পুনঃখনন কার্যক্রম সেই পুরোনো উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে কৃষি ও বসবাস দুটোই কঠিন হয়ে পড়ে। উলশী খাল পুনঃখনন হলে শুধু পানি নিষ্কাশনই সহজ হবে না, বরং এলাকার কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সরকার মাঠপর্যায়ে বাস্তবমুখী কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাল-বিল ও নদী পুনরুদ্ধার করলে পরিবেশ রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। জনসমাগম বেশি হলেও কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অনেক কৃষক জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এখন খালটি পুনঃখনন হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে তারা আশাবাদী।
সবকিছু মিলিয়ে উলশী খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান যশোরবাসীর মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। এখন সবার নজর প্রকল্পটির সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়নের দিকে—কারণ সেটিই নির্ধারণ করবে, এই উদ্যোগ থেকে মানুষ কতটা বাস্তব সুফল পাবে।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নতুন এক উন্নয়ন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজ সকালে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করতে যশোরে পৌঁছান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।
সকালেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। তাদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উল্লেখযোগ্য। অভ্যর্থনা শেষে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে শার্শার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
বিমানবন্দর থেকে শার্শা পর্যন্ত পুরো সড়কপথ যেন মানুষের ঢলে ভরে যায়। সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। কোথাও ফুল ছিটিয়ে, কোথাও স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। জনতার ভিড়ের কারণে গাড়িবহরকে ধীরে ধীরে এগোতে দেখা যায়। অনেকেই বলছিলেন, এত বড় জনসমাগম তারা দীর্ঘদিন পর দেখলেন।
শার্শার উলশী এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। স্থানীয়দের কাছে এই খাল শুধু একটি জলপথ নয়, এটি তাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা, কৃষি ক্ষতি এবং পরিবেশগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে পুনঃখননের এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সত্তরের দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে “উলশী-যদুনাথপুর” খাল খনন করা হয়েছিল। সে সময় এই প্রকল্প স্থানীয় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। খালের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন সহজ হয় এবং চাষাবাদে গতি আসে। অনেকেই এটিকে একটি সফল গণঅংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে মনে করেন।
বর্তমান পুনঃখনন কার্যক্রম সেই পুরোনো উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে কৃষি ও বসবাস দুটোই কঠিন হয়ে পড়ে। উলশী খাল পুনঃখনন হলে শুধু পানি নিষ্কাশনই সহজ হবে না, বরং এলাকার কৃষি উৎপাদনও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সরকার মাঠপর্যায়ে বাস্তবমুখী কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাল-বিল ও নদী পুনরুদ্ধার করলে পরিবেশ রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। জনসমাগম বেশি হলেও কোথাও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অনেক কৃষক জানান, বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হয়। এখন খালটি পুনঃখনন হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে তারা আশাবাদী।
সবকিছু মিলিয়ে উলশী খাল পুনঃখনন শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান যশোরবাসীর মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। এখন সবার নজর প্রকল্পটির সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়নের দিকে—কারণ সেটিই নির্ধারণ করবে, এই উদ্যোগ থেকে মানুষ কতটা বাস্তব সুফল পাবে।

আপনার মতামত লিখুন