দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, বাসচালক পলাতক

উত্তরায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, বাসচালক পলাতক

চাচা-ভাতিজির অনৈতিক সম্পর্কে ভাতিজির বিবাহ বিচ্ছেদ, এলাকায় তোলপাড়

নূরুল আনোয়ার ওয়াকফ স্টেটের সম্পত্তি দখল ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য

কটিয়াদীতে কৃষক হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার রক্তমাখা ছুরি

নওগাঁয় বজ্রপাতে নিহতের কবর পাহারা দিচ্ছেন স্বজনরা, লাশ চুরির আশঙ্কায় রাতভর নজরদারি

বাঞ্ছারামপুর থানা হোগলাকান্দি গ্রামে টেকসই সড়ক ও ড্রেন পেয়ে আনন্দিত সর্বস্তরের গ্রামবাসী...

বাঞ্ছারামপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল, নাশকতা প্রতিহতের হুঁশিয়ারি

বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: মেঘালয়ের রেকর্ড বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৬ জেলায় প্লাবনের শঙ্কা

প্রেমের টানে চীন থেকে কুষ্টিয়ায় যুবক, ভেড়ামারায় কোর্ট ম্যারেজ ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রেমের টানে চীন থেকে কুষ্টিয়ায় যুবক, ভেড়ামারায় কোর্ট ম্যারেজ ঘিরে চাঞ্চল্য
-ছবি: সংগৃহীত

প্রেমের কোনো সীমান্ত নেই—এই কথাটিই যেন আবারও বাস্তব হয়ে উঠল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, দীর্ঘ আলাপ আর এক বছরের সম্পর্ক শেষে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করলেন এক তরুণ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


অনলাইন পরিচয় থেকে জীবনের বাঁধন

চীনের গাতসু প্রদেশের ২৩ বছর বয়সী তরুণ Chen Bao Ming প্রায় এক বছর আগে অনলাইনে পরিচিত হন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম বেহলা গ্রামের তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে।

শুরুর সাধারণ আলাপ ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর সম্পর্কে। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তৈরি হয় বিশ্বাস ও ভালোবাসা, যা শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে গড়ায়।


পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্পর্কটি দুই পরিবারকেই জানানো হলে উভয় পক্ষই এতে সম্মতি দেন। পরে চেন বাও মিং বাংলাদেশে আসেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) কুষ্টিয়া আদালতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাসলিমার বাবা মধু মোল্লা।

বিয়ের পর নবদম্পতি বর্তমানে তাসলিমার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।


গ্রামে বিদেশি জামাইকে ঘিরে কৌতূহল

বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভেড়ামারা ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। প্রতিদিনই স্থানীয়রা ভিড় করছেন নবদম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য।

অনেকেই প্রথমবারের মতো কাছ থেকে কোনো চীনা নাগরিককে দেখছেন, যা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। এলাকায় বিষয়টি এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।



নবদম্পতির প্রতিক্রিয়া

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তাসলিমা খাতুন বলেন, “আমাদের বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছে। সবাই আমাদের পাশে আছে, আমি খুবই খুশি।”

অন্যদিকে চেন বাও মিং বলেন, “আমি তাসলিমাকে ভালোবাসি। তার পরিবার খুবই আন্তরিক। আমি এখানে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে শিগগিরই স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


অনলাইন প্রেমের নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন ভৌগোলিক দূরত্ব অনেকটাই কমে গেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সহজেই সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

এই ধরনের আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের কারণে বিয়ের ঘটনাও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে।


স্থানীয় সমাজে ভিন্ন অভিজ্ঞতা

ভেড়ামারা উপজেলা মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা হলেও এমন আন্তর্জাতিক বিয়ের ঘটনা এখানে খুব একটা দেখা যায় না। তাই ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে একদিকে কৌতূহল, অন্যদিকে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা আগে বিদেশি কাউকে এত কাছে দেখিনি। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”


সংস্কৃতি ও সম্পর্কের মেলবন্ধন

ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দুই ভিন্ন দেশের এই সম্পর্ক স্থানীয়দের মধ্যে একটি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বরং দুই সংস্কৃতির একটি ছোট মেলবন্ধনের উদাহরণ।



উপসংহার

সব মিলিয়ে, চেন বাও মিং ও তাসলিমা খাতুনের এই বিয়ে এখন ভেড়ামারার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে এসে পৌঁছানো অনেকের কাছেই বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এখন দেখার বিষয়, সময়ের সঙ্গে এই আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক কতটা সুন্দরভাবে এগিয়ে যায় এবং দুই ভিন্ন সংস্কৃতির জীবন একসঙ্গে কীভাবে গড়ে ওঠে।

বিষয় : চীন বাংলাদেশ বিয়ে অনলাইন প্রেম বিয়ে ভেড়ামারা চীনা জামাই আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক বাংলাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


প্রেমের টানে চীন থেকে কুষ্টিয়ায় যুবক, ভেড়ামারায় কোর্ট ম্যারেজ ঘিরে চাঞ্চল্য

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রেমের কোনো সীমান্ত নেই—এই কথাটিই যেন আবারও বাস্তব হয়ে উঠল কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, দীর্ঘ আলাপ আর এক বছরের সম্পর্ক শেষে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করলেন এক তরুণ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


অনলাইন পরিচয় থেকে জীবনের বাঁধন

চীনের গাতসু প্রদেশের ২৩ বছর বয়সী তরুণ Chen Bao Ming প্রায় এক বছর আগে অনলাইনে পরিচিত হন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম বেহলা গ্রামের তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে।

শুরুর সাধারণ আলাপ ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর সম্পর্কে। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তৈরি হয় বিশ্বাস ও ভালোবাসা, যা শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে গড়ায়।


পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্পর্কটি দুই পরিবারকেই জানানো হলে উভয় পক্ষই এতে সম্মতি দেন। পরে চেন বাও মিং বাংলাদেশে আসেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) কুষ্টিয়া আদালতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাসলিমার বাবা মধু মোল্লা।

বিয়ের পর নবদম্পতি বর্তমানে তাসলিমার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।


গ্রামে বিদেশি জামাইকে ঘিরে কৌতূহল

বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভেড়ামারা ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। প্রতিদিনই স্থানীয়রা ভিড় করছেন নবদম্পতিকে এক নজর দেখার জন্য।

অনেকেই প্রথমবারের মতো কাছ থেকে কোনো চীনা নাগরিককে দেখছেন, যা তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। এলাকায় বিষয়টি এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।



নবদম্পতির প্রতিক্রিয়া

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তাসলিমা খাতুন বলেন, “আমাদের বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছে। সবাই আমাদের পাশে আছে, আমি খুবই খুশি।”

অন্যদিকে চেন বাও মিং বলেন, “আমি তাসলিমাকে ভালোবাসি। তার পরিবার খুবই আন্তরিক। আমি এখানে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে শিগগিরই স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


অনলাইন প্রেমের নতুন বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন ভৌগোলিক দূরত্ব অনেকটাই কমে গেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সহজেই সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

এই ধরনের আন্তঃদেশীয় সম্পর্কের কারণে বিয়ের ঘটনাও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে।


স্থানীয় সমাজে ভিন্ন অভিজ্ঞতা

ভেড়ামারা উপজেলা মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা হলেও এমন আন্তর্জাতিক বিয়ের ঘটনা এখানে খুব একটা দেখা যায় না। তাই ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছে একদিকে কৌতূহল, অন্যদিকে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা আগে বিদেশি কাউকে এত কাছে দেখিনি। এটা আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।”


সংস্কৃতি ও সম্পর্কের মেলবন্ধন

ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দুই ভিন্ন দেশের এই সম্পর্ক স্থানীয়দের মধ্যে একটি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু একটি বিয়ে নয়, বরং দুই সংস্কৃতির একটি ছোট মেলবন্ধনের উদাহরণ।



উপসংহার

সব মিলিয়ে, চেন বাও মিং ও তাসলিমা খাতুনের এই বিয়ে এখন ভেড়ামারার সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাস্তব জীবনে এসে পৌঁছানো অনেকের কাছেই বিস্ময় ও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

এখন দেখার বিষয়, সময়ের সঙ্গে এই আন্তঃদেশীয় সম্পর্ক কতটা সুন্দরভাবে এগিয়ে যায় এবং দুই ভিন্ন সংস্কৃতির জীবন একসঙ্গে কীভাবে গড়ে ওঠে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর