দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ট্রান্সফরমার চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো মাদকের গুদাম, নওগাঁয় উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা

ট্রান্সফরমার চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো মাদকের গুদাম, নওগাঁয় উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা

বাংলাদেশ-রাশিয়া বৈঠক: জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়

রাজন-রাকিবের মতো রামিসার বিচারও কি হারিয়ে যাবে উচ্চ আদালতে!

কক্সবাজারে পুলিশের জোড়া অভিযান: অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আলোচিত আসামি গ্রেফতার

ঢাকায় আজ কোথায় কী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠান, স্টিল খাতের সংবাদ সম্মেলন ও জলবায়ু বিষয়ক গোলটেবিল

নওগাঁর মান্দায় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ৪

বেনাপোল সীমান্তে ১০ লক্ষ টাকার মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামাল আটক

দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ বিস্তার: মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৮, ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ

দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ বিস্তার: মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৮, ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ
-ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের সংক্রমণ আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুদের জীবন, যাদের বড় অংশই টিকা না নেওয়া বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত।


সংক্রমণের বিস্তার সারাদেশে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের কয়েকটি এলাকা—Demra, Jatrabari, Kamrangirchar, Kalyanpur Kachukhet Kairail area, Mirpur এবং Tejgaon Industrial Area—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায়—

  • ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত
  • প্রায় ৩ হাজার রোগী পরীক্ষাগারে নিশ্চিত
  • ১৬৬ শিশুর মৃত্যু (প্রাথমিক সময়পর্ব অনুযায়ী)
  • বর্তমানে ১২ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

গত ২৪ ঘণ্টার নতুন ৭ জন মৃত্যুর পর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে।



সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা। মোট রোগীর প্রায় ৭৯ শতাংশই এই বয়সসীমার মধ্যে।

এর মধ্যে অনেক শিশু এখনো টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়নি, আবার অনেকে সময়মতো টিকা পায়নি।


টিকা সংকট ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি।

২০২৪–২৫ সময়ে হাম-রুবেলা (MR) টিকার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


হামের ভয়াবহতা ও লক্ষণ

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • জ্বর
  • কাশি
  • চোখ লাল হওয়া
  • শরীরে ফুসকুড়ি

আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার কয়েক দিন আগে ও পরে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।


অপুষ্টি ও জটিলতা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পাশাপাশি অপুষ্টি এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এর ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।


টিকাদানে আগের সাফল্য ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ একসময় টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। ২০০০ সালের দিকে টিকার কভারেজ প্রায় ৮৯ শতাংশে পৌঁছায়, পরবর্তীতে তা আরও উন্নত হয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদান ও সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রমে শৈথিল্য দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ।



বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাদের মতে—

  • জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো
  • শিশুদের পুষ্টি ও ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করা

এসব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


সরকারের করণীয় ও প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত রোগী শনাক্তে কাজ চলছে।


উপসংহার

সব মিলিয়ে হামের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব নয়, বরং দেশের টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিষয় : হাম রোগ বাংলাদেশ শিশু মৃত্যু হাম টিকা সংকট বাংলাদেশ হামের প্রাদুর্ভাব ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬


দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ বিস্তার: মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৮, ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে হামের সংক্রমণ আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুদের জীবন, যাদের বড় অংশই টিকা না নেওয়া বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত।


সংক্রমণের বিস্তার সারাদেশে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের কয়েকটি এলাকা—Demra, Jatrabari, Kamrangirchar, Kalyanpur Kachukhet Kairail area, Mirpur এবং Tejgaon Industrial Area—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান

চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায়—

  • ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত
  • প্রায় ৩ হাজার রোগী পরীক্ষাগারে নিশ্চিত
  • ১৬৬ শিশুর মৃত্যু (প্রাথমিক সময়পর্ব অনুযায়ী)
  • বর্তমানে ১২ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

গত ২৪ ঘণ্টার নতুন ৭ জন মৃত্যুর পর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৮ জনে।



সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা। মোট রোগীর প্রায় ৭৯ শতাংশই এই বয়সসীমার মধ্যে।

এর মধ্যে অনেক শিশু এখনো টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়নি, আবার অনেকে সময়মতো টিকা পায়নি।


টিকা সংকট ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি।

২০২৪–২৫ সময়ে হাম-রুবেলা (MR) টিকার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।


হামের ভয়াবহতা ও লক্ষণ

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • জ্বর
  • কাশি
  • চোখ লাল হওয়া
  • শরীরে ফুসকুড়ি

আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার কয়েক দিন আগে ও পরে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।


অপুষ্টি ও জটিলতা

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পাশাপাশি অপুষ্টি এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। এর ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।


টিকাদানে আগের সাফল্য ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশ একসময় টিকাদানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। ২০০০ সালের দিকে টিকার কভারেজ প্রায় ৮৯ শতাংশে পৌঁছায়, পরবর্তীতে তা আরও উন্নত হয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদান ও সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রমে শৈথিল্য দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ।



বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাদের মতে—

  • জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা
  • ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো
  • শিশুদের পুষ্টি ও ভিটামিন এ সরবরাহ নিশ্চিত করা

এসব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


সরকারের করণীয় ও প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং আক্রান্ত এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা এবং দ্রুত রোগী শনাক্তে কাজ চলছে।


উপসংহার

সব মিলিয়ে হামের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব নয়, বরং দেশের টিকাদান ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় এখনই সমন্বিত ও জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর