রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরের বিহারী ক্যাম্প এলাকায় টানা ১২ দিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে গোসল, রান্না, এমনকি ধর্মীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
মিরপুর ১১ নম্বরের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১২ দিন ধরে এলাকায় নিয়মিতভাবে পানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে পরিবারের নিত্যদিনের কাজকর্ম—রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া, গোসলসহ মৌলিক সব কাজই ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় মসজিদেও পানি না থাকায় ধর্মীয় কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পানি ছাড়া জীবন চলে না। ১২ দিন ধরে আমরা খুব কষ্টে আছি। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যার শুরু থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
বাসিন্দাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে সমস্যা শুনলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং অনেক সময় স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
চরম ভোগান্তির প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও করেছেন। তারা দ্রুত পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও বড় হবে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের আরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
ঢাকার মতো জনবহুল শহরে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি মৌলিক সেবা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু মিরপুরের এই এলাকায় টানা পানির সংকট জনদুর্ভোগকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু এই এলাকাই নয়, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এবার ১২ দিনের দীর্ঘ সংকট পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানির সংকট থাকলে শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, জনস্বাস্থ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিষ্কার পানির অভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
একজন স্থানীয় চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়, এতে নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে ঢাকা ওয়াসার ভূমিকা নিয়ে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অতীতে সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইনে সমস্যা থাকলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে হলেও স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট যাতে না ঘটে, সে জন্য স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে মিরপুর ১১ নম্বর বিহারী ক্যাম্পের ১২ দিনের এই পানিসংকট স্থানীয়দের জীবনকে অচল করে তুলেছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।
এখন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা—অবিলম্বে নিরাপদ ও নিয়মিত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরের বিহারী ক্যাম্প এলাকায় টানা ১২ দিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে গোসল, রান্না, এমনকি ধর্মীয় কাজও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
মিরপুর ১১ নম্বরের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১২ দিন ধরে এলাকায় নিয়মিতভাবে পানি সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে পরিবারের নিত্যদিনের কাজকর্ম—রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া, গোসলসহ মৌলিক সব কাজই ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি স্থানীয় মসজিদেও পানি না থাকায় ধর্মীয় কার্যক্রমেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পানি ছাড়া জীবন চলে না। ১২ দিন ধরে আমরা খুব কষ্টে আছি। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই ভোগান্তিতে পড়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমস্যার শুরু থেকেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।
বাসিন্দাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে সমস্যা শুনলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং অনেক সময় স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে বিকল্প ব্যবস্থা করতে বলা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
চরম ভোগান্তির প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও করেছেন। তারা দ্রুত পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও বড় হবে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের আরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
ঢাকার মতো জনবহুল শহরে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি মৌলিক সেবা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু মিরপুরের এই এলাকায় টানা পানির সংকট জনদুর্ভোগকে চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু এই এলাকাই নয়, এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে এবার ১২ দিনের দীর্ঘ সংকট পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানির সংকট থাকলে শুধু দৈনন্দিন জীবনই নয়, জনস্বাস্থ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিষ্কার পানির অভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
একজন স্থানীয় চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়, এতে নানা ধরনের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে ঢাকা ওয়াসার ভূমিকা নিয়ে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অতীতে সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও লাইনে সমস্যা থাকলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে হলেও স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট যাতে না ঘটে, সে জন্য স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে মিরপুর ১১ নম্বর বিহারী ক্যাম্পের ১২ দিনের এই পানিসংকট স্থানীয়দের জীবনকে অচল করে তুলেছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।
এখন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা—অবিলম্বে নিরাপদ ও নিয়মিত পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন