শেরপুরের নকলা উপজেলায় দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে, তখন কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০ হাজার ৪৯৭টি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মাসজুড়ে চলমান এই কার্যক্রম আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী ৯৪২টি পরিবারের মাঝে পণ্য বিক্রির মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা আরও জোরদারভাবে শুরু হয়।
সকাল থেকেই উপকারভোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। সেখানে নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন।
টিসিবির এই প্যাকেজে প্রতিটি পরিবার পাচ্ছে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি মসুর ডাল এবং ১ কেজি চিনি। মোট ৫৪০ টাকায় এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
এতে করে প্রতিদিনের বাজার ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমছে বলে জানান উপকারভোগীরা। অনেকেই বলেন, নিয়মিত বাজার থেকে এসব পণ্য কিনতে গেলে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। টিসিবির এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
স্থানীয় টিসিবি ডিলার মো. শহিদ মিয়া জানান, কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তুষ্টি দেখা গেছে। তার ভাষায়, “অনেক পরিবার একসঙ্গে সব পণ্য কিনতে পারে না। টিসিবির এই কার্যক্রম তাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে তাদের।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার ২ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের মাঝে ২২ ও ২৩ এপ্রিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে পণ্য বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে—
এসব এলাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে পণ্য বিক্রির আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ডিলাররা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যাতে কোনো যোগ্য পরিবার বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চালের ডিও প্রস্তুতসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে লক্ষ্য একটাই—সব উপকারভোগী যেন নির্ধারিত সুবিধা পান।
টিসিবি দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে আসছে। বিশেষ করে রমজান, ঈদ বা বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময় এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।
এর ফলে অনেক পরিবার বাজারের অতিরিক্ত চাপ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নকলার এই চলমান টিসিবি কার্যক্রম শুধু একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং হাজারো দরিদ্র পরিবারের জন্য বাস্তবিক স্বস্তির একটি ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে পুরো উপজেলায় বড় সংখ্যক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
শেরপুরের নকলা উপজেলায় দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম যখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে, তখন কম দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের জীবনে।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১০ হাজার ৪৯৭টি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মাসজুড়ে চলমান এই কার্যক্রম আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী ৯৪২টি পরিবারের মাঝে পণ্য বিক্রির মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা আরও জোরদারভাবে শুরু হয়।
সকাল থেকেই উপকারভোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। সেখানে নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন।
টিসিবির এই প্যাকেজে প্রতিটি পরিবার পাচ্ছে ৫ কেজি চাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি মসুর ডাল এবং ১ কেজি চিনি। মোট ৫৪০ টাকায় এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় অনেক কম।
এতে করে প্রতিদিনের বাজার ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমছে বলে জানান উপকারভোগীরা। অনেকেই বলেন, নিয়মিত বাজার থেকে এসব পণ্য কিনতে গেলে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। টিসিবির এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
স্থানীয় টিসিবি ডিলার মো. শহিদ মিয়া জানান, কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তুষ্টি দেখা গেছে। তার ভাষায়, “অনেক পরিবার একসঙ্গে সব পণ্য কিনতে পারে না। টিসিবির এই কার্যক্রম তাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এই উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে তাদের।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার ২ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের মাঝে ২২ ও ২৩ এপ্রিল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে পণ্য বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে—
এসব এলাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে পণ্য বিক্রির আয়োজন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ডিলাররা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যাতে কোনো যোগ্য পরিবার বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চালের ডিও প্রস্তুতসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে লক্ষ্য একটাই—সব উপকারভোগী যেন নির্ধারিত সুবিধা পান।
টিসিবি দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়ে আসছে। বিশেষ করে রমজান, ঈদ বা বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সময় এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।
এর ফলে অনেক পরিবার বাজারের অতিরিক্ত চাপ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নকলার এই চলমান টিসিবি কার্যক্রম শুধু একটি সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং হাজারো দরিদ্র পরিবারের জন্য বাস্তবিক স্বস্তির একটি ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে পুরো উপজেলায় বড় সংখ্যক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন