দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে হাজারো যাত্রী

সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীতে কড়াকড়ি, অস্ত্র বহন ও সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ

শাহজালাল বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে আগুন, কনটেইনারের ভেতর থেকেও আগুনের সূত্রপাত দেখেছে কর্তৃপক্ষ

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

নতুন ব্রিজ এলাকায় নৌ পুলিশের অভিযানে ডাকাত সন্দেহে আটক ২, সাংবাদিক পরিচয় দাবি নিয়ে রহস্য

নতুন ব্রিজ এলাকায় নৌ পুলিশের অভিযানে ডাকাত সন্দেহে আটক ২, সাংবাদিক পরিচয় দাবি নিয়ে রহস্য
-ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় আবারও ডাকাতির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। আটক হওয়া একজন নিজেকে টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক দাবি করলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি—যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী নদীঘেঁষা নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সন্ধ্যার পর এই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে ছিনতাই ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়ে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার একটি টহল দল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি দুইজনকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা সাহসিকতার সঙ্গে বিষয়টি নৌ পুলিশকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শাহ আলম ও তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়। এ সময় ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করা হয়। গাড়িটির নম্বর চট্ট মেট্রো গ-১১-২৫৯১ বলে জানা গেছে। পুলিশ এখন গাড়িটির মালিকানা ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজখবর নিচ্ছে।

ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো—আটকের সময় শাহ আলম নিজেকে একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক বলে দাবি করেন। তবে তিনি কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তার এই দাবি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। বিস্তারিত জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এসআই আরিফ জানান, তিনি তখনও বিষয়টি পুরোপুরি অবগত নন এবং বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদী ঘেঁষা নতুন ব্রিজ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যার পর অনেক পথচারী ও যানবাহন চালক এই এলাকায় চলাচল করতে ভয় পান। বিশেষ করে নদীপথ ও ব্রিজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গাগুলোকে অপরাধীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, নিয়মিত টহল বাড়ানো হলেও স্থায়ীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। তারা মনে করছেন, পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আলো বাড়ানো, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, নতুন ব্রিজ এলাকা চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং নদীপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। এ কারণে এই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নৌ পুলিশের প্রধান দায়িত্বই হলো নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলপথে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ করা।

স্থানীয়রা আশা করছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর নতুন ব্রিজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং পালিয়ে যাওয়া অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় ও তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা গেলে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে নতুন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় নজরদারি অব্যাহত থাকলে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

বিষয় : সাংবাদিক পুলিশের পরিচয়

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


নতুন ব্রিজ এলাকায় নৌ পুলিশের অভিযানে ডাকাত সন্দেহে আটক ২, সাংবাদিক পরিচয় দাবি নিয়ে রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় আবারও ডাকাতির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। আটক হওয়া একজন নিজেকে টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক দাবি করলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি—যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।  ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী নদীঘেঁষা নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সন্ধ্যার পর এই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে ছিনতাই ও জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এসব কারণে এলাকাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পেয়ে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার একটি টহল দল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি দুইজনকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা সাহসিকতার সঙ্গে বিষয়টি নৌ পুলিশকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মূলহোতা হিসেবে পরিচিত শাহ আলম ও তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়। এ সময় ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি গাড়িও জব্দ করা হয়। গাড়িটির নম্বর চট্ট মেট্রো গ-১১-২৫৯১ বলে জানা গেছে। পুলিশ এখন গাড়িটির মালিকানা ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজখবর নিচ্ছে।

ঘটনার একটি চাঞ্চল্যকর দিক হলো—আটকের সময় শাহ আলম নিজেকে একটি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক বলে দাবি করেন। তবে তিনি কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় তার এই দাবি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদরঘাট নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। বিস্তারিত জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে এসআই আরিফ জানান, তিনি তখনও বিষয়টি পুরোপুরি অবগত নন এবং বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদী ঘেঁষা নতুন ব্রিজ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। সন্ধ্যার পর অনেক পথচারী ও যানবাহন চালক এই এলাকায় চলাচল করতে ভয় পান। বিশেষ করে নদীপথ ও ব্রিজ সংলগ্ন ফাঁকা জায়গাগুলোকে অপরাধীরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, নিয়মিত টহল বাড়ানো হলেও স্থায়ীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। তারা মনে করছেন, পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আলো বাড়ানো, সিসিটিভি স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, নতুন ব্রিজ এলাকা চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং নদীপথের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। এ কারণে এই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া নৌ পুলিশের প্রধান দায়িত্বই হলো নদীপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলপথে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ করা।

স্থানীয়রা আশা করছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর নতুন ব্রিজ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং পালিয়ে যাওয়া অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত পরিচয় ও তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা গেলে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে নতুন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা আবারও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় নজরদারি অব্যাহত থাকলে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা থাকলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর