দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

স্কুলের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি, স্বামী-স্ত্রীকে বদলি দুই প্রান্তে

স্কুলের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি, স্বামী-স্ত্রীকে বদলি দুই প্রান্তে

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ৬ জন

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৬ ইউনিট

নেত্রকোনায় সাংবাদিক হত্যায় স্ত্রীর মামলা, আসামি অজ্ঞাত ৮ জন

কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫; কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেই

সিরাজগঞ্জে ট্রাকের গতিরোধ করে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, গ্রেপ্তার ৩

টঙ্গীতে ভয়াবহ আগুনের পর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কারখানা বন্ধ ঘোষণা

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন, দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ফেলা হয় কর্ণফুলী নদীতে

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। চারজনই একই ঘরে থাকতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত নিয়ামতপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর থেকেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। বিশেষ করে দুই শিশুর মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ বেশি মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়ে, জামাই আর নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে।” তিনি জানান, এই ঘটনার পর তাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার পেছনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রামাঞ্চলে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ থেকেই বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমন ঘটনায় সাধারণত ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একইভাবে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

নিয়ামতপুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার মানুষের মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছাপ ফেলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দিকেই সবার নজর রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। চারজনই একই ঘরে থাকতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত নিয়ামতপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর থেকেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। বিশেষ করে দুই শিশুর মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ বেশি মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়ে, জামাই আর নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে।” তিনি জানান, এই ঘটনার পর তাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার পেছনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রামাঞ্চলে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ থেকেই বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমন ঘটনায় সাধারণত ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একইভাবে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

নিয়ামতপুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার মানুষের মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছাপ ফেলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দিকেই সবার নজর রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর