দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

ভোলাহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি ঘর ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন সহোদরের পরিবার

বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ উদ্যোগ

মনিরামপুরে সড়কে রক্তাক্ত রাত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবক

বাঞ্ছারামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। চারজনই একই ঘরে থাকতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত নিয়ামতপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর থেকেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। বিশেষ করে দুই শিশুর মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ বেশি মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়ে, জামাই আর নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে।” তিনি জানান, এই ঘটনার পর তাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার পেছনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রামাঞ্চলে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ থেকেই বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমন ঘটনায় সাধারণত ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একইভাবে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

নিয়ামতপুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার মানুষের মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছাপ ফেলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দিকেই সবার নজর রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। চারজনই একই ঘরে থাকতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ভেতরে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত নিয়ামতপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর থেকেই পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, এমন ভয়াবহ ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি। বিশেষ করে দুই শিশুর মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ বেশি মর্মাহত হয়ে পড়েছেন।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, “আমার মেয়ে, জামাই আর নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দিতে হবে।” তিনি জানান, এই ঘটনার পর তাদের পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যার পেছনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রামাঞ্চলে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। অনেক সময় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ থেকেই বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমন ঘটনায় সাধারণত ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একইভাবে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়তে পারে।

নিয়ামতপুরের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার মানুষের মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছাপ ফেলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দিকেই সবার নজর রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর