দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

ভোলাহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি ঘর ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন সহোদরের পরিবার

বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ উদ্যোগ

মনিরামপুরে সড়কে রক্তাক্ত রাত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবক

বাঞ্ছারামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কার্ডের নামে ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কার্ডের নামে ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ
-ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’—এই স্লোগান ব্যবহার করে তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো একটি কার্ড চালু করেন। ওই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেসমিন বেগম ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ধাইনগরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রতিটি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে এইভাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু কার্ড নয়, প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলাদাভাবে আরও ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে অনেক অসহায় মানুষ টাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। 

চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জেসমিন বেগমের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পরে গত ৬ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে গত রবিবার জেলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের ডাকা হলে সেখানে প্রায় ৩০০ নারীকে নিয়ে উপস্থিত হন জেসমিন বেগম। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং অভিযোগ রয়েছে যে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা দরকার। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জেসমিন বেগমের বক্তব্য জানতে তার স্থানীয় সহযোগী মেদুল বাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি মূলত দরিদ্র মানুষের জন্য কম দামে চাল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে নির্ধারিত কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট দামে চাল পান। তাই এই ধরনের সরকারি কর্মসূচির নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা আদায় করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সুবিধার নামে ভুয়া কার্ড বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মাঝেমধ্যে সামনে এসেছে। ফলে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা কমবে বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফল কী আসে এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। 

বিষয় : চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদায়ের কার্ডের

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কার্ডের নামে ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’—এই স্লোগান ব্যবহার করে তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মতো একটি কার্ড চালু করেন। ওই কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেসমিন বেগম ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ধাইনগরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে প্রতিটি কার্ডের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে এইভাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু কার্ড নয়, প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলাদাভাবে আরও ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে অনেক অসহায় মানুষ টাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। 

চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জেসমিন বেগমের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পরে গত ৬ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে গত রবিবার জেলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের ডাকা হলে সেখানে প্রায় ৩০০ নারীকে নিয়ে উপস্থিত হন জেসমিন বেগম। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং অভিযোগ রয়েছে যে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা দরকার। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জেসমিন বেগমের বক্তব্য জানতে তার স্থানীয় সহযোগী মেদুল বাবুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি মূলত দরিদ্র মানুষের জন্য কম দামে চাল দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে নির্ধারিত কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট দামে চাল পান। তাই এই ধরনের সরকারি কর্মসূচির নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা আদায় করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সুবিধার নামে ভুয়া কার্ড বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ মাঝেমধ্যে সামনে এসেছে। ফলে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা কমবে বলে মনে করছেন তারা।

সব মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফল কী আসে এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়—সেদিকেই তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর