দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

ভোলাহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি ঘর ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন সহোদরের পরিবার

বেনাপোল সীমান্তে ‘পুশইন’ চেষ্টার অভিযোগ, বিজিবির কঠোর অবস্থানে ব্যর্থ উদ্যোগ

মনিরামপুরে সড়কে রক্তাক্ত রাত, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই যুবক

বাঞ্ছারামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

জনগণ হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে, বিচারব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণ হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে, বিচারব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণ হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে, বিচারব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী 

দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মানুষ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এই তিনটি বিভাগের কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পূর্ণ সুফল পাবে না। তিনি মনে করেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ন্যায়বিচার, সমতা এবং সামাজিক ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। আদালত যেন হয়রানির জায়গা না হয়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থান হয়—এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। এতে সমাজ থেকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা জনতার হাতে বিচার নেওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিচারব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়েছে। আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে অন্তত ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। এতে সময় লাগত এবং নানা ধরনের ঝামেলাও পোহাতে হতো। এখন ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে

এদিন বগুড়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া—এই সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারামুক্তির ক্ষেত্রে অযথা দেরি ও হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার। এতে পুরো বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, আগে কাগজভিত্তিক জামিন প্রক্রিয়ায় আদালত থেকে কারাগারে তথ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগত। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বিলম্ব ও জালিয়াতির অভিযোগও উঠত। ডিজিটাল ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ায় এসব সমস্যা কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বিচার ব্যবস্থায় মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন। এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, পুলিশ বা সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অনেক বন্দি টাকার অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর জেলে থাকছেন। এ বিষয়ে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ই-বেইলবন্ড চালু সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিষয় : বিচারব্যবস্থা পেয়েছে, প্রধানমন্ত্রী

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


জনগণ হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে, বিচারব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জনগণ হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে, বিচারব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী 

দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মানুষ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। এই তিনটি বিভাগের কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নাগরিকরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের পূর্ণ সুফল পাবে না। তিনি মনে করেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ন্যায়বিচার, সমতা এবং সামাজিক ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। আদালত যেন হয়রানির জায়গা না হয়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিরাপদ স্থান হয়—এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার। এতে সমাজ থেকে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা জনতার হাতে বিচার নেওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিচারব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়েছে। আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে অন্তত ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। এতে সময় লাগত এবং নানা ধরনের ঝামেলাও পোহাতে হতো। এখন ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছে

এদিন বগুড়া ছাড়াও ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া—এই সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর ফলে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তির কারামুক্তির ক্ষেত্রে অযথা দেরি ও হয়রানি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, ভবিষ্যতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার। এতে পুরো বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, আগে কাগজভিত্তিক জামিন প্রক্রিয়ায় আদালত থেকে কারাগারে তথ্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগত। অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বিলম্ব ও জালিয়াতির অভিযোগও উঠত। ডিজিটাল ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ায় এসব সমস্যা কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বিচার ব্যবস্থায় মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন। এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, পুলিশ বা সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের অনেক বন্দি টাকার অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর জেলে থাকছেন। এ বিষয়ে কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ই-বেইলবন্ড চালু সেই পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর