গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরী বান্ধবীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খোজেখানি গ্রামের জিংরাইল ঘাট এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো খোজেখানি গ্রামের শ্যামল মোড়লের মেয়ে সুবর্ণা আক্তার (১৬) এবং একই গ্রামের মিলনের মেয়ে মিম (১৬)। সুবর্ণা স্থানীয় খোজেখানি দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে মিম খোজেখানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। দুইজনই ভালো বান্ধবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষ্যা নদীর জিংরাইল ঘাটে গোসল করতে যায় সাত থেকে আটজন কিশোরী। তাদের সঙ্গে মিমের দাদি মোমিনা বেগম এবং সুবর্ণার ছোট বোন হামিদাও ছিল। একপর্যায়ে মিম সাঁতার কাটতে কাটতে নদীর মাঝামাঝি চলে যায় এবং হঠাৎ তলিয়ে যেতে থাকে।
মিমকে ডুবতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত নদীর মাঝখানে সাঁতরে যায় সুবর্ণা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্যরা ভয় পেয়ে তীরে উঠে চিৎকার করতে থাকে এবং বাড়িতে খবর দেয়।
সুবর্ণার ছোট বোন হামিদা জানান, তারা সবাই খুব ভয় পেয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে খবর দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে নদীতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর কচুরিপানার ভেতর থেকে সুবর্ণাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে তখন আর তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে মিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, চিৎকার শুনে দ্রুত নদীতে ছুটে যান তিনি। পরে অন্যদের সহযোগিতায় কচুরিপানার ভেতর থেকে সুবর্ণাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মাওনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, শীতলক্ষ্যা নদীর ওই ঘাট এলাকায় প্রায়ই মানুষ গোসল করতে নামে। কিন্তু নদীর মাঝামাঝি অংশে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাঁতার ভালো না জানলে সেখানে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতেও এ এলাকায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পানিতে কেউ নিখোঁজ হলে দ্রুত খবর দিলে উদ্ধারকাজ সহজ হয়। তাদের প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালায়। তবে নদীর স্রোত বেশি থাকলে উদ্ধার কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা নদীতে গোসলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরী বান্ধবীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খোজেখানি গ্রামের জিংরাইল ঘাট এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো খোজেখানি গ্রামের শ্যামল মোড়লের মেয়ে সুবর্ণা আক্তার (১৬) এবং একই গ্রামের মিলনের মেয়ে মিম (১৬)। সুবর্ণা স্থানীয় খোজেখানি দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অন্যদিকে মিম খোজেখানি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। দুইজনই ভালো বান্ধবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে শীতলক্ষ্যা নদীর জিংরাইল ঘাটে গোসল করতে যায় সাত থেকে আটজন কিশোরী। তাদের সঙ্গে মিমের দাদি মোমিনা বেগম এবং সুবর্ণার ছোট বোন হামিদাও ছিল। একপর্যায়ে মিম সাঁতার কাটতে কাটতে নদীর মাঝামাঝি চলে যায় এবং হঠাৎ তলিয়ে যেতে থাকে।
মিমকে ডুবতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত নদীর মাঝখানে সাঁতরে যায় সুবর্ণা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজনেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা অন্যরা ভয় পেয়ে তীরে উঠে চিৎকার করতে থাকে এবং বাড়িতে খবর দেয়।
সুবর্ণার ছোট বোন হামিদা জানান, তারা সবাই খুব ভয় পেয়ে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে খবর দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে নদীতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর কচুরিপানার ভেতর থেকে সুবর্ণাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে তখন আর তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে মিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, চিৎকার শুনে দ্রুত নদীতে ছুটে যান তিনি। পরে অন্যদের সহযোগিতায় কচুরিপানার ভেতর থেকে সুবর্ণাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মিমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মাওনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নিখোঁজ ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাসির আহমদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, শীতলক্ষ্যা নদীর ওই ঘাট এলাকায় প্রায়ই মানুষ গোসল করতে নামে। কিন্তু নদীর মাঝামাঝি অংশে হঠাৎ গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাঁতার ভালো না জানলে সেখানে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতীতেও এ এলাকায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পানিতে কেউ নিখোঁজ হলে দ্রুত খবর দিলে উদ্ধারকাজ সহজ হয়। তাদের প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালায়। তবে নদীর স্রোত বেশি থাকলে উদ্ধার কাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়রা নদীতে গোসলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন