দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে

হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১০ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২৮

২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৪৭ — দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার

রমজান এলেই কেন বাড়ে দাম? রাজধানীতে মাছ-মাংস ও কাঁচামালের আগুন মূল্য, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

এমপক্স করোনা মহামারির মতো ভয়াবহ হবে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

খালি নাকি ভরা পেটে মিষ্টি খেলে শরীরে সুগার বাড়ে?

বিশ্বে করোনায় আরও ২৬০ জনের মৃত্যু

হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে

হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে
-ফাইল ফটো

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন করে শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ জন শিশু। তাদের মধ্যে পরীক্ষা শেষে ৯২ জনের শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছেন।

রাজধানীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। অনেক জায়গায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে মেঝে বা বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ শিশু উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু অনেক শিশু এখনও নির্ধারিত সময়ের এমআর (MR) টিকা নিতে পারেনি। বিশেষ করে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া এই টিকাগুলো বাদ পড়ে গেলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ফলে এবারের সংক্রমণে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত শিশু।

এ ছাড়া অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে ভাইরাস দ্রুত তাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা তৈরি করে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় অনেক অভিভাবক এখনও হামকে সাধারণ জ্বর বা ‘মায়ের দয়া’ মনে করে দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। এতে রোগের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি এলাকাকে ইতোমধ্যে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের বস্তি এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধে এমআর টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বহুবার জানিয়েছে। আগে কয়েক দফা গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু এলাকায় টিকাদানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আবার সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—শিশুর উচ্চ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং কয়েকদিন পর শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। পাশাপাশি বেশি করে পানি, বুকের দুধ এবং ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি আতঙ্কের নয়, তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সরকার, চিকিৎসক এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে শিশুদের এই ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন করে শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপও বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ জন শিশু। তাদের মধ্যে পরীক্ষা শেষে ৯২ জনের শরীরে হামের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলছেন।

রাজধানীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের ভিড় বাড়ছে। অনেক জায়গায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক শিশুকে মেঝে বা বারান্দায় রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ শিশু উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণত টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু অনেক শিশু এখনও নির্ধারিত সময়ের এমআর (MR) টিকা নিতে পারেনি। বিশেষ করে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া এই টিকাগুলো বাদ পড়ে গেলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ফলে এবারের সংক্রমণে যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত শিশু।

এ ছাড়া অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে ভাইরাস দ্রুত তাদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা তৈরি করে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় অনেক অভিভাবক এখনও হামকে সাধারণ জ্বর বা ‘মায়ের দয়া’ মনে করে দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। এতে রোগের অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের কয়েকটি এলাকাকে ইতোমধ্যে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের বস্তি এলাকা এবং দুর্গম অঞ্চলে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় হাম প্রতিরোধে এমআর টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বহুবার জানিয়েছে। আগে কয়েক দফা গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে হাম প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু এলাকায় টিকাদানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আবার সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—শিশুর উচ্চ জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং কয়েকদিন পর শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি। পাশাপাশি বেশি করে পানি, বুকের দুধ এবং ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি আতঙ্কের নয়, তবে সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হাম সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সরকার, চিকিৎসক এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে শিশুদের এই ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর