রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর মধ্যে একটি “অলিখিত সমঝোতা” তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের আহতদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে—এমন কথাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন। এমনকি দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন জামিনে বেরিয়ে আসছে। তার দাবি, এসব ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আহতরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে হুমকিও পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো সংস্কার করার বদলে নিজেদের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এই কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তাও দেন সারজিস। তিনি বলেন, যদি বিএনপি মনে করে তারা বিরোধী দলের কবর খুঁড়বে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবে, তাহলে সেই কবরে সবার আগে তাদেরই জায়গা হবে। তার এই বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে বেশ আলোড়ন দেখা যায়।
মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবার ও আহতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রলোভনে বিভক্ত হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শহীদ পরিবার বা আহতদের কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দেখা গেলে আন্দোলনের মূল চেতনা দুর্বল হয়ে যাবে। তাদের সবসময় জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেও যদি কখনো জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত গণআন্দোলনগুলোর একটি, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। এই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আন্দোলনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের বিষয়টি তখন থেকেই আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সারজিস আলমের এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত দেখা দিলেও বিষয়টি যে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর মধ্যে একটি “অলিখিত সমঝোতা” তৈরি হয়েছে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রোববার দুপুরে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত শহীদ পরিবার ও আন্দোলনের আহতদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোটের মাধ্যমেই ক্ষমতায় এসেছে—এমন কথাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন। এমনকি দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকেও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন জামিনে বেরিয়ে আসছে। তার দাবি, এসব ঘটনায় শহীদ পরিবার ও আহতরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে হুমকিও পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলো সংস্কার করার বদলে নিজেদের মতো ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এই কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির প্রতি সরাসরি সতর্কবার্তাও দেন সারজিস। তিনি বলেন, যদি বিএনপি মনে করে তারা বিরোধী দলের কবর খুঁড়বে এবং সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটবে, তাহলে সেই কবরে সবার আগে তাদেরই জায়গা হবে। তার এই বক্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে বেশ আলোড়ন দেখা যায়।
মতবিনিময় সভায় শহীদ পরিবার ও আহতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের প্রলোভনে বিভক্ত হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শহীদ পরিবার বা আহতদের কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দেখা গেলে আন্দোলনের মূল চেতনা দুর্বল হয়ে যাবে। তাদের সবসময় জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টি নিজেও যদি কখনো জনগণের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত গণআন্দোলনগুলোর একটি, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। এই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আন্দোলনের ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের বিষয়টি তখন থেকেই আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও অতীতে একাধিকবার জানিয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সারজিস আলমের এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত দেখা দিলেও বিষয়টি যে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, তা স্পষ্ট। ভবিষ্যতে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন